বৃহস্পতিবার, জুলাই ৩০, ২০২৬
আপডেট

প্রতিষ্ঠান পরিচিতি

১. প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি

  • প্রতিষ্ঠানের নাম:
    কানিজ নেওয়াজ তালীমূল কোরআন একাডেমী এন্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন
  • ধরণ: (ইসলামী শিক্ষা/গবেষণা প্রতিষ্ঠান)
  • অবস্থান: ( গ্রাম: ছিলিমপুর,১ নং ওয়ার্ড,১১ নং চিরাং ইউনিয়ন,থানা: কেন্দুয়া, জেলা: নেত্রকোনা, বিভাগ: ময়মনসিংহ )

২. প্রতিষ্ঠার পটভূমি

জনাব সামসুল কবির খান সাহেবের সম্মানিত পিতা, মরহুম এলাহী নেওয়াজ খান (কেনু খান) একজন অত্যন্ত দ্বীনপ্রিয় ও মানবদরদী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি গ্রামের মানুষের প্রতি গভীর মমতা অনুভব করতেন এবং তাদের দ্বীনি জ্ঞান থেকে বঞ্চিত অবস্থায় দেখে গভীরভাবে ব্যথিত হতেন। তিনি নিয়মিতভাবে গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে হেঁটে হেঁটে খোঁজখবর নিতেন এবং মানুষের সার্বিক কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন।

গ্রামের মানুষ দ্বীনি শিক্ষা থেকে বঞ্চিত থাকায় তিনি অত্যন্ত মর্মাহত ছিলেন। তাদেরকে দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করার মহান লক্ষ্য নিয়ে তিনি ১৯৩৪ সালে নিজ উদ্যোগে মরহুম শাহনেওয়াজ খান, মরহুম তারাবত খান, আয়দর খান প্রমুখ মুরব্বিদের নেতৃত্বে সমগ্র ছিলিমপুর গ্রামের মানুষদের নিয়ে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করেন। উক্ত সভায় সকলের সম্মতি ও মতামতের ভিত্তিতে একটি দ্বীনি মাদরাসা প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সেই লক্ষ্যে আলোচনা সভা শেষে তিনি উপস্থিত সকলকে নিয়ে বর্তমান কান্দা মসজিদের পাশে (যা ১৯৩৪ সালে “জালাপাট” নামে পরিচিত ছিল) নিজস্ব জায়গায় বাঁশ দিয়ে লাল নিশানা স্থাপন করেন, যা ভবিষ্যৎ মাদরাসার স্থান নির্ধারণের প্রতীক ছিল।

তবে  পরবর্তিতে মাদরাসা নির্মাণ একটি সময়সাপেক্ষ ও অনিশ্চিৎ বিষয় মনে হওয়ায় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে নিজ গৃহে কোরআন শিক্ষার ব্যবস্থা চালু করেন। ১৯৩৬ সনে এই মহৎ উদ্যোগের সূচনালগ্নে তিনি খলিল মাস্টারের পিতা (ময়নার বাবা) কে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন এবং তার মাসিক বেতন নির্ধারণ করেন ৫ টাকা, যা সে সময়ের প্রেক্ষাপটে যথেষ্ট সম্মানজনক ছিল।

প্রায় প্রতিদিন তার নিজ গৃহের বারান্দায় ১৫–২০ জন ছাত্র কোরআন শিক্ষা গ্রহণের জন্য সমবেত হতো। এই প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে জনাব আহমদ কবির খান সাহেব, জনাব ফজলুর রহমান সাহেবসহ আরও ১৫–২০ জন ছাত্র ছিলেন। তারা এখানেই কায়দা থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে শুদ্ধভাবে কোরআন তিলাওয়াত শিখে দক্ষতা অর্জন করতেন।

 

মাদ্‌রাসার ভিত্তি স্থাপন:
মরহুম এলাহী নেওয়াজ খান (কেনু খান) সাহেবের এই দ্বীনি দরদ ও সমাজকল্যাণমূলক চিন্তা এবং মাদসারা প্রতিষ্ঠার অপূর্ণসপ্ন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আর সাথে সাথে ছিলিমপুর গ্রাম ও আশে-পাশে কোন উল্লেখযোগ্য দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় তাঁর প্রিয় সন্তান জনাব সামসুল কবির খান সাহেব গ্রামের মানুষকে সঠিক দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করার মহান উদ্দেশ্যে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সেই লক্ষ্যে তিনি সর্বপ্রথম নিজ পত্রিক গৃহে অল্প সংখ্যক ছাত্র নিয়ে, মাওলানা আব্দুস সালাম সাহেবের তত্ত্বাবধানে ছোট পরিসরে ২০০১ সনের পহেলা জুন মাসে দ্বীনি শিক্ষার কার্যক্রম শুরু করেন।

এই ক্ষুদ্র উদ্যোগটি পরবর্তীতে ধীরে ধীরে ছাত্রসংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে বিস্তৃত হতে থাকে এবং বৃহত্তর ভবন ও উন্নত অবকাঠামোর প্রয়োজন দেখা দেয়। এই প্রয়োজন পূরণের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠাতা জনাব সামসুল কবির খান সাহেব ঢাকায় অবস্থিত তাঁর নিজস্ব প্রতিষ্ঠান “খান স্টীল মিল ” থেকে বড় বড় এঙ্গেল ট্রাস ও পিলার তৈরি করে কেন্দুয়ায় নিয়ে আসেন এবং বর্তমান হিফজ ও নূরানী বিভাগের ভিত্তি স্থাপন করেন। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি একটি পূর্ণাঙ্গ দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের রূপ লাভ করে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো সমাজে কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক শিক্ষা বিস্তার করা এবং আদর্শ মানুষ গড়ে তোলা।

প্রতিষ্ঠানের উন্নাতি ও অগ্রতি:

আস্তে আস্তে দূর-দূরান্ত থেকে ছাত্ররা আসতে শুরু করে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই হিফজ ও নূরানী বিভাগে ছাত্রসংখ্যা পূর্ণতা লাভ করে। এক পর্যায়ে জনাব সামসুল কবির খান সাহেব স্থায়ীভাবে নিজ গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসেন। তিনি নিজ অর্থায়নে নিম্নাঞ্চলীয় জমি ক্রয় করে তা ভরাট করেন এবং ধীরে ধীরে সেখানে রাস্তা, নিজ বাসভবনসহ বিভিন্ন প্রকার ফলজ ও ফুলের গাছ রোপণ করে মনোরম পরিবেশ গড়ে তোলেন।

প্রতিষ্ঠানের সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিনি মাটির নিচ দিয়ে বিদ্যুতের লাইন সংযোগ প্রদান করেন এবং প্রধান সড়কের দু’পাশে লাইট স্থাপনসহ একটি বৃহৎ উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেন। এছাড়াও মাঠের চারপাশে রাস্তা নির্মাণ, পুকুরপাড়ে বসার জন্য চেয়ার স্থাপনসহ নান্দনিক ও আকর্ষণীয় অবকাঠামো গড়ে তোলেন।

শিক্ষার্থীদের মানসিক প্রশান্তি ও বিনোদনের জন্য সরকারি অনুমোদনক্রমে সীমিত পরিসরে হরিণ, ময়ূর, বিভিন্ন প্রজাতির বিদেশি পাখি এবং রঙিন মাছ পালন করা হচ্ছে। পাশাপাশি রয়েছে বড় খেলার মাঠ, দোলনা ইত্যাদি, যা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আনন্দঘন পরিবেশ নিশ্চিত করছে।

বর্তমানে মাদ্রাসার বাউন্ডারির ভেতরে ৩৩৫৪ ডেসিমাল জমি এবং বাউন্ডারির বাইরে ২৫৫৫.৬৪ ডেসিমাল আবাদি জমি রয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কবুল করলে ভবিষ্যতে এই মাদ্রাসা কমপ্লেক্সে একটি চারতলা বিশিষ্ট মসজিদ ও একাডেমিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, ইনশাআল্লাহ।

এতদিন মাদ্রাসাটি সম্পূর্ণভাবে নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত হয়ে আসছিল। তবে বর্তমান সময়ের চাহিদা ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে বাহ্যিক সহযোগিতা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

কিতাব বিভাগের সূচনা :

প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জনাব সামসুল কবির খান সাহেবের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল—এই প্রতিষ্ঠান থেকে একজন ছাত্র হিফজ সম্পন্ন করার পর পূর্ণাঙ্গ আলেম হিসেবে গড়ে উঠবে। সেই মহৎ চিন্তা ও লক্ষ্যকে সামনে রেখে ১২-০৩-২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে সকল শিক্ষকগণকে নিয়ে মুফতী মাহমুদুল হাসান সাহেব একটি জরুরি পরামর্শ বৈঠক আয়োজন করেন।

উক্ত বৈঠকে উপস্থিত সকল শিক্ষকগণের মতামতের ভিত্তিতে কিতাব বিভাগ চালু করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরবর্তীতে এ সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠাতা জনাব সামসুল কবির খান সাহেবকে অবগত করা হলে তিনি মুফতী মাহমুদুল হাসান সাহেবকে দ্রুত কিতাব বিভাগ চালুর প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেন।

তার নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে মাদরাসার মিনি চিড়িয়াখানা অপসারণ করে অতি অল্প সময়ের মধ্যে কিতাব বিভাগের জন্য শ্রেণিকক্ষ প্রস্তুত করা হয়। অতঃপর ০১-০৩-২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ, ১৪৪৬ হিজরি সনের ১লা রমজান থেকে মুফতী নাজমুল হক রহমানী সাহেবকে নাযিমে তা’লীমাত হিসেবে নিয়োগ প্রদান করে কিতাব বিভাগের ভর্তি কার্যক্রম শুরু করা হয়।

প্রথম বর্ষে তাইসীর জামাত থেকে শুরু করে শরহে জামী শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান চালু করা হয়। বর্তমানে চলমান দ্বিতীয় বর্ষে শরহে বেকায়া পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম সাফল্যের সাথে পরিচালিত হচ্ছে।

ইনশাআল্লাহ, ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে দাওরায়ে হাদিস পর্যন্ত এই শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

কম্পিউটার প্রশিক্ষণ বিভাগ:

জনাব সামসুল কবির খান সাহেবের চিন্তা-চেতনা হলো—প্রত্যেক শিক্ষার্থী যেন আত্মনির্ভরশীল হয়ে গড়ে ওঠে এবং তারা যেন সমাজ ও যুগের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রযুক্তির সাথে পরিচিত থাকতে পারে।

এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে চলতি বছর, অর্থাৎ ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে মোঃ আশ্রাফুল ইসলাম শুভ, মুফতী মাহমুদুল হাসান এবং মোঃ নাদিমুল ইসলামের উদ্যোগে ইনশাআল্লাহ কম্পিউটার শিক্ষা কার্যক্রম চালু হতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে আমাদের প্রতিটি শিক্ষার্থী কম্পিউটারে দক্ষ হয়ে উঠবে এবং ভবিষ্যতে নিজেদের উপার্জনের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম হবে—এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা। এর ফলে এলাকার সাধারণ শিক্ষার্থীরাও আধুনিক শিক্ষার সুযোগ লাভ করবে। একই সঙ্গে মাদরাসার শিক্ষার্থীরাও দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগ পাবে।

এই মহৎ উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিশেষ অবদান রাখেন জনাবা মোছাঃ তাসফিয়া জাবিন প্রীতি সাহেবা এবং জনাব মোঃ ফায়জুল কবির খান সাহেব।

পরবর্তীতে কারিগরি শিক্ষার অংশ হিসেবে এখানে লেদ মেশিন, রেডিয়াল ও বেঞ্চ ড্রিলিং মেশিন, শেপার মেশিন, মিলিং মেশিন, পাওয়ার হ্যাকসো এবং ওয়েল্ডিং সরঞ্জাম সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে। ধাতু কাটিং ও বিভিন্ন আকৃতি প্রদানের কাজে এসব যন্ত্রপাতির পাশাপাশি গ্রাইন্ডার, পাইপ বেন্ডার এবং শিয়ারিং মেশিনসহ অন্যান্য আধুনিক সরঞ্জামও ব্যবহৃত হবে।

ভবিষ্যতে বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা প্রকৃত অর্থেই আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারে এবং শুধু মাদরাসা বা মসজিদনির্ভর না থেকে সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হয়।

প্রতিষ্ঠাতা:

জনাব সামসুল কবির খান সাহেব একজন দ্বীনপ্রেমী, সমাজসেবক ও দূরদর্শী শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি। তিনি এক সম্ভ্রান্ত ও দ্বীনদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর সম্মানিত পিতা মরহুম এলাহী নেওয়াজ খান (কেনু খান) ছিলেন একজন পরহেজগার ও মানবদরদী মানুষ, যার প্রভাব তাঁর জীবনে গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়।

শৈশব থেকেই তিনি দ্বীনের প্রতি অনুরাগী ছিলেন এবং সমাজের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে গ্রামীণ শিশু-কিশোরদের দ্বীনি শিক্ষার অভাব তাঁকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলত। এই উপলব্ধি থেকেই তাঁর অন্তরে একটি স্বপ্ন জন্ম নেয়—নিজ এলাকায় একটি আদর্শ দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা।

পরবর্তীতে তিনি সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিজ উদ্যোগে “কানিজ নেওয়াজ তা’লীমূর কোরআন একাডেমী এন্ড রিচার্স ফাউন্ডেশন” প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে অল্প পরিসরে কোরআন শিক্ষার কার্যক্রম চালু হলেও তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং দূর-দূরান্ত থেকে ছাত্ররা এখানে ভর্তি হতে শুরু করে।

প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি নিজ অর্থায়নে জমি ক্রয় ও ভরাট করে সুপরিকল্পিত অবকাঠামো গড়ে তোলেন। তিনি রাস্তা নির্মাণ, বিদ্যুৎ সংযোগ, লাইট স্থাপন, পুকুরপাড় উন্নয়ন, ফলজ ও বনজ বৃক্ষরোপণসহ নানাবিধ উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেন।

শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত করতে তিনি শিক্ষার পাশাপাশি বিনোদন ও মানসিক প্রশান্তির ব্যবস্থাও গ্রহণ করেন। বড় খেলার মাঠ, দোলনা এবং সীমিত পরিসরে প্রাণী ও পাখি পালনের ব্যবস্থা তারই অংশ।

তাঁর অন্যতম বড় লক্ষ্য ছিল—এই মাদরাসা থেকে একজন ছাত্র যেন হাফেজ হওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ আলেম হতে পারে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য তিনি কিতাব বিভাগ চালু করেন এবং ধাপে ধাপে উচ্চতর দ্বীনি শিক্ষার পথ সুগম করেন।

এছাড়াও তিনি যুগের চাহিদা বিবেচনায় আধুনিক ও কারিগরি শিক্ষার দিকেও গুরুত্ব দেন। কম্পিউটার শিক্ষা, লেদ মেশিন ও সেলাই প্রশিক্ষণ চালুর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ মাদরাসাটি নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালনা করে আসছেন, যা তাঁর আত্মত্যাগ ও নিষ্ঠার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

পরিশেষে বলা যায়, জনাব সামসুল কবির খান সাহেব একজন সফল শিক্ষানুরাগী, দক্ষ সংগঠক এবং নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবক, যার অবদান এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি স্তরে প্রতিফলিত। আল্লাহ তায়ালা তাঁর এই খেদমত কবুল করুন এবং তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন—আমীন।

মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি গঠন:

মাদরাসার প্রথম পরিচালনা কমিটির সম্মানিত সদস্যবৃন্দ:

সম্মানিত সভাপতি: মরহুম আনোয়ার কবির খান
সম্মানিত সেক্রেটারি: মরহুম আব্দুল মান্নান খান
সম্মানিত ক্যাশিয়ার: জনাব মোঃ ফজলুর রহমান খান

পরবর্তীতে সভাপতি ও সেক্রেটারির ইন্তিকাল ঘটে এবং জনাব মোঃ ফজলুর রহমান খান সাহেব অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠাতা জনাব সামসুল কবির খান সাহেব সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি এ দায়িত্বকে তাঁর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করে আজ পর্যন্ত নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে তা পালন করে আসছেন।

নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ:

 

 

 

প্রথম মুহতামিম নিয়োগঃ

প্রতিষ্ঠাতা জনাব সামসুল কবির খান সাহেব ২০০০ সনে ঢাকায় রাজা বাজারে বসবাস করতেন সেখানে মসজিদ এর সম্মানিত ইমাম ছিলেন হাফেজ আব্দুস সালাম সাহেব, জনাব সামসুল কবির খান সাহেব হাফেজ আব্দুস সালাম সাহেবের নিকট মাদরাসা প্রতিষ্ঠার ইচ্ছে পোসন করলে হাফেজ সাহেব তাতে সম্মতি প্রদান করেন সেই হিসেব জনাব সামসুল কবির খান সাহেব হাফেজ আব্দুস সালাম সাহেব কে নিজ গ্রামে ছিলিমপুরে মাদরাসা প্রতিষ্ঠার জন্য পাঠিয়ে দেন এবং তিনি ছিলিমপুর এসে মাদরাসার কার্যক্রম শুরু করেন আর তার অধিনেই মাদরাসার সূচনা হয়। এমনকি মাদরাসার আশ-পাশের অনেক গাছ তার হাতেই লাগানো। তিনি ২ বৎসর পর্যন্ত মাদরসার মুহতামীম এর দায়ীত্ব পালন করেন।

যুগে যুগে মুহতামিমগণ ও সহকারী শিক্ষকগণ

ক্রমিক মুহতামিমের নাম সহকারী শিক্ষকগণ
হাফেজ মোঃ আব্দুস সালাম সাহেব (দাঃবাঃ) ১) হাফেজ জহির সাহেব (দাঃবাঃ)
২) হাফেজ কামালউদ্দীন সাহেব (দাঃবাঃ)
মাওলানা আব্দুল জলিল সাহেব (দাঃবাঃ) ১) জনাব হাবিবুর রহমান (স্যার)
২) হাফেজ মাওলানা রিয়াজ সাহেব (দাঃবাঃ)
৩) হাফেজ তোফাজ্জল সাহেব (দাঃবাঃ)
হাফেজ মাওলানা রিয়াজ সাহেব (দাঃবাঃ) ১) হাফেজ আনোয়ার সাহেব (দাঃবাঃ)
হাফেজ কামালউদ্দীন সাহেব (দাঃবাঃ) ১) হাফেজ আনোয়ার সাহেব (দাঃবাঃ)
২) হাফেজ তোফাজ্জল সাহেব (দাঃবাঃ)
৩) হাফেজ মাহবুব হাসান সাহেব (দাঃবাঃ)
৪) জনাব হাবিবুর রহমান (স্যার)
৫) মাওলানা মজিবুর রহমান সাহেব (দাঃবাঃ)
৬) হাফেজ আল আমীন সাহেব (দাঃবাঃ)
হাফেজ মাওলানা হুসাইন আহমদ সাহেব (দাঃবাঃ) ১) হাফেজ মাহবুব হাসান সাহেব (দাঃবাঃ)
২) হাফেজ আল আমীন সাহেব (দাঃবাঃ)
৩) জনাব ফায়জুল ইসলাম (স্যার)
হাফেজ মাওলানা আবু হানিফ সাহেব (দাঃবাঃ) ১) হাফেজ আল আমীন সাহেব (দাঃবাঃ)
২) হাফেজ মাহবুব হাসান সাহেব (দাঃবাঃ)
৩) মাওলানা আবু সাঈদ সাহেব (দাঃবাঃ)
৪) হাফেজ তোফাজ্জল সাহেব (দাঃবাঃ)
৫) মাওলানা নূর উদ্দীন সাহেব (দাঃবাঃ)
৬) লাকি খানম (মেডাম)
৭) হাফেজ মাওলানা খাইরুল ইসলাম সাহেব (দাঃবাঃ)
৮) হাফেজ বাইজিদ মাহমুদ সাহেব (দাঃবাঃ)
৯) হাফেজ আলমগীর সাহেব (দাঃবাঃ)
১০) হাফেজ মনির সাহেব (দাঃবাঃ)
১১) হাফেজ ইব্রাহিম সাহেব (দাঃবাঃ)
হাফেজ বাবুল সাহেব (দাঃবাঃ) ১) হাফেজ মাওলানা মুফতী নূরুজ্জামান তালহা সাহেব (দাঃবাঃ)
২) হাফেজ ইব্রাহিম সাহেব (দাঃবাঃ)
৩) হাফেজ আব্দুল্লাহ পারভেজ সাহেব (দাঃবাঃ)
৪) হাফেজ মাওলানা খাইরুল ইসলাম সাহেব (দাঃবাঃ)
৫) জনাব মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন (স্যার)
হাফেজ মাওলানা মুফতী জাকারিয়্যা সাহেব (দাঃবাঃ) ১) হাফেজ আব্দুল্লাহ সাহেব (দাঃবাঃ)
২) হাফেজ মাহবুব হাসান সাহেব (দাঃবাঃ)
৩) হাফেজ মাওলানা খাইরুল ইসলাম সাহেব (দাঃবাঃ)
৪) জনাব মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন (স্যার)
হাফেজ, মাওলানা, ক্বারী মনিরুল ইসলাম সাহেব (দাঃবাঃ) ১) হাফেজ নোমান সাহেব (দাঃবাঃ)
২) হাফেজ মাহবুব হাসান সাহেব (দাঃবাঃ)
৩) হাফেজ মাওলানা খাইরুল ইসলাম সাহেব (দাঃবাঃ)
৪) জনাব মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন (স্যার)
হাফেজ,মাওলানা,মুফতী মাহমুদুল হাসান (ভারপ্রাপ্ত মুহতামীম) ১)হাফেজ, মাওলানা, মুফতী নাজমুল হক রহমানী সাহেব (দাঃবাঃ)

২) মাওলানা, মুফতী মুসলিমউদ্দীন সাহেব (দাঃবাঃ)
৩) হাফেজ, মাওলানা, মুফতী খাইরুল ইসলাম সাহেব (দাঃবাঃ)
৪) মাওলানা জাকারিয়্যা সাহেব (দাঃবাঃ)
৫) মাওলানা মাহদী হাসান সাহেব (দাঃবাঃ)
৬) জনাব খাইরুল ইসলাম (স্যার)
৭) হাফেজ নোমান সাহেব (দাঃবাঃ)
৮) হাফেজ মশিউর রহমান আফ্রিদি
৯) হাফেজ রাকিব হাসান সাহেব (দাঃবাঃ)
১০) হাফেজ মাওলানা খাইরুল ইসলাম সাহেব (দাঃবাঃ)
১১) হাফেজ আসাদুল হক সাহেব (দাঃবাঃ)

হাফেজ, মাওলানা, মুফতী নাজমুল হক রহমানী সাহেব (দাঃবাঃ) ১) মাওলানা, মুফতী মুসলিমউদ্দীন সাহেব (দাঃবাঃ)
২) হাফেজ, মাওলানা, মুফতী খাইরুল ইসলাম সাহেব (দাঃবাঃ)
৩) মাওলানা জাকারিয়্যা সাহেব (দাঃবাঃ)
৪) মাওলানা মাহদী হাসান সাহেব (দাঃবাঃ)
৫) হাফেজ, মাওলানা, মুফতী ইয়াসিন আলম সাহেব (দাঃবাঃ)
৬) জনাব খাইরুল ইসলাম (স্যার)
৭) হাফেজ নোমান সাহেব (দাঃবাঃ)
৮) হাফেজ মশিউর রহমান আফ্রিদি
৯) হাফেজ রাকিব হাসান সাহেব (দাঃবাঃ)
১০) হাফেজ মাওলানা খাইরুল ইসলাম সাহেব (দাঃবাঃ)
১১) হাফেজ আসাদুল হক সাহেব (দাঃবাঃ)

১২) জনাব মুখতার হোসেন খান (স্যার)

 

যুগে যুগে ইসলামি গবেষকগন:

১) হাফেজ মাওলানা মুফতী মাসুদ ইব্রহীমি সাহেব দাঃবাঃ

১) হাফেজ মাওলানা মুফতী নূরুজ্জামান তালহা সাহেব দাঃবাঃ

২) হাফেজ মাওলানা মুফতী আতিকুল্লাহ সাহেব দাঃবাঃ

৩) হাফেজ মাওলানা মুফতী মাহমুদুল হাসান সাহেব (বর্তমান)

যুগে যুগে ক্যাশিয়ারগণ:

১) জনাব মোঃ ফজলুর রহমান সাহেব
২) হাফেজ আল আমীন সাহেব (দাঃবাঃ)
৩) হাফেজ আবু হানিফ সাহেব (দাঃবাঃ)
৪) জনাব মোঃ ইকবাল কবির খান সাহেব
৫) জনাব মোঃ খাদিমুল ইসলাম সাহেব
৬) জনাব মোঃ হুমায়ূন আহমদ সাহেব
৭) মোঃ আশরাফুল ইসলাম শুভ
৮)মুফতী মাহমুদুল হাসান সাহেব

হাফেজ মোঃ মাহবুব হাসান সাহেব (বর্তমান)

৯) সহকারী মোঃ নাদিমুল ইসলাম ( বর্তমান)

 

 

হোয়াটসাঅ্যাপ চ্যাট
মেসেঞ্জার চ্যাট