
বিষয়ঃ গুনাহের ভয়াবহতা নাফসের দাসত্বের ভয়াবহতা
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ। এই আলোচনাটি নদী বা সমুদ্রে ডুবন্ত মানুষদের নিয়ে নয়। নদী ও সমুদ্রে ডুবন্ত মানুষগুলো যদি নেককার হয়ে থাকে তাহলে মহান ও ক্ষমাশীল আল্লাহর ইচ্ছায় তারা শহীদের মর্যাদা পাবে। আমাদের আজকের আলোচনা হলো গুনাহে নিমজ্জিত ব্যক্তিদের নিয়ে। যারা প্রবৃত্তির তাড়না ও হারাম মজায় ডুবে আছে। তারা এমনভাবে হারাম মজা উপভোগে ডুবে আছে যেন তারা এই দুনিয়ায় চিরজীবন বেঁচে থাকবে। তারা ভুলে গেছে যে এই দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী এবং এটা হলো পরীক্ষার স্থান। এরপরে রয়েছে হিসাব ও প্রতিদান। এবং আমাদেরকে বিশ্বজগতের স্রষ্টার সামনে দাঁড়াতে হবে। দাঁড়াতে হবে আসমান ও জমিনের প্রবল প্রতাপশালী স্রষ্টার সামনে। যার ভয়াবহতার কারণে শিশুরা বৃদ্ধে পরিণত হবে। নিশ্চয় এটা ওই সকল বিভ্রান্ত লোকের প্রতি একটি সতর্ক বার্তা। যারা নিজেদের চেহারার উপর ধ্বংস হাতভাগ্যের নিদর্শন একে দিয়েছে। কারণ তারা পাপ আর অবাধ্যতায় নিমজ্জিত। যে পাপ ও অবাধ্যতা তাদের অন্তরকে অন্ধ করে দিয়েছে এবং তাদের বিবেচনা বোধ সংকীর্ণ করে দিয়েছে। তাদের থেকে নেয়ামত দূর করে দিয়েছে এবং আল্লাহর ক্রোধ অবধারিত করেছে। সাঈদ বিন মুসাইয়াব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আল্লাহর অনুগত বান্দারা নিজেদেরকে সবচেয়ে বেশি সম্মানিত করে। আর আল্লাহর অবাধ্য বান্দারা নিজেরাই নিজেদেরকে লাঞ্ছিত, ঘৃণিত করে। এই আলোচনা ওই সকল লোকের প্রতি একটি সতর্ক বার্তা। গুনাহ ও প্রবৃত্তির তাড়নায় ডুবে থাকা ব্যতীত। যাদের জীবনের আর কোন লক্ষ্য নেই। তারা যার মধ্যে রয়েছে তা নিয়েই তারা সন্তুষ্ট। তারা লাঞ্চনা অবাধ্যতার মধ্যে জীবন অতিবাহিত করে। তুমি দেখবে তারা নিজেদের গুনাহ ও অপরাধের বিষয়টি মানুষের কাছে প্রকাশ করে বেড়ায়। তারা আল্লাহর আদেশ পালন করা থেকে বিমুখ থাকে। তাদের অনুভূতিতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লামের এই বাণী অনুপস্থিত। কুল্ উম্মত ইল্লাল মুজাহিন আমার সকল উম্মতকেই ক্ষমা করা হবে। তবে যারা গুনাহের বিষয় প্রকাশ করে তাদেরকে ক্ষমা করা হবে না। আল্লাহ বলেন জাহান্নামা কাসিরমিনালজিলাহুল্লাহ [মিউজিক] উলাফ আমি বহু জীন মানুষকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি। তাদের হৃদয় রয়েছে কিন্তু তারা তা দিয়ে উপলব্ধি করে না। তাদের চক্ষু রয়েছে কিন্তু তারা তা দিয়ে দেখে না। তাদের কর্ণ রয়েছে। কিন্তু তারা তা দিয়ে শোনে না। তারাই হলো পশুর ন্যায়। বরং তা অপেক্ষা অধিক বিভ্রান্ত। তারাই হলো গাফেল বা উদাসীন। নিশ্চয় এরাই হলো ডুবন্ত লোক। তাদের কোন অনুভূতি নেই। তারা এমন পথে চলে যার শুরু হলো লজ্জা ও অপমান। আর শেষটা হলো বিধ্বংসী জাহান্নাম। আমরা এ সকল লোকের অবস্থা শোনার পূর্বে ওই সকল লোকের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলব যারা মুক্তির ন্যায় আরোহণ করেছে এসো আমরা ওই সকল ডুবন্ত লোকের সাহায্যে এগিয়ে যাই কারণ তারা একটি দয়ালু হৃদয়ের বড় মুখাপেক্ষী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লাম বলেছেন আর রাহিমুনায়ারহামহুমুর রহমা দয়ালুদের প্রতি দয়াময় আল্লাহর দয়া করেন তারা একটু উত্তম কথার বড়ই মুখাপেক্ষী আর উত্তম কথা হল সদাকা যেমন হাদিসে এসেছে আল কালিমাতু বা সকা উত্তম কথা হলো সদাকা তার একটু আন্তরিক হাসির মুখাপেক্ষী তোমার ভাইয়ের সামনে তোমার মুচকি হাসিটিও সদকা হাদিসে এসেছেলা তোমার ভাইয়ের সামনে তোমার মুচকি হাসি সদকা আল্লাহ তালা বলেনহল্লাহফ [মিউজিক] [মিউজিক] আল্লাহ ইন্নাল্লাহাব্বুল মুতাওয়াকলিন। সুতরাং আল্লাহর পরম অনুগ্রহ যে তুমি তাদের উপর দয়াদ্র রয়েছো। যদি তুমি র মেজাজ ও কঠিন হৃদয়ের হতে তবে অবশ্যই তারা তোমার পাশ থেকে সরে যেত। সুতরাং তাদের দোষ ক্ষমা করো। এবং আল্লাহর কাছে তাদের গুনাহের জন্য ক্ষমা চাও। আর কাজকর্মে তাদের সঙ্গে পরামর্শ করো। অতঃপর যখন কোন ব্যাপারে সংকল্পবদ্ধ হও। তখন আল্লাহর প্রতি ভরসা করো। নিশ্চয় আল্লাহ ভরসাকারীদেরকে পছন্দ করেন। এবার আসুন আমরা গুনাহে ডুবন্ত লোকদের অবস্থা শুনি। ডুবন্ত লোকদের অবস্থা হলো তাদের রাতদিন সমান। তারা মনে করে যে তাদের সকল সুখ ও সফলতা হারাম স্বাদ উপভোগ করা। প্রবৃত্তির পূজায় ডুবে থাকা আর উদভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ানোর মাঝে নিহিত। আল্লাহ বলেন ইসতাহ আলাইহশতল্লাহ [মিউজিক] শয়তান ওদের উপর চেপে বসেছে এবং তাদেরকে আল্লাহর জিকির ভুলিয়ে দিয়েছে এরাই শয়তানের দল জেনে রাখো নিশ্চয় শয়তানের দল ক্ষতিগ্রস্ত তারা ফজরের পূর্বে প্লেন ধরার জন্য ভ্রমণ করার জন্য জাগ্রত হতে পারে কিন্তু তারা ফজরের সালাতের জন্য জাগ্রত হতে পারে অথচ ফজরের সালাত আদায় না করা মুনাফিকের আলামত। তাদেরকে দেখবে খেলার সময় বলের পেছনে দীর্ঘ সময় ছুটছে। এতে তাদের কোন কষ্ট হয় না। কিন্তু সালাত আদায় করার সময় তাদের শক্তি শেষ হয়ে যায়। দুর্বলতার কারণে তারা সালাত ছেড়ে দেয়। অথচ মসজিদ তাদের থেকে সামান্য কয়েক কদম দূরে মাত্র। আল্লাহ তালা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম ওতার সাথীদের ব্যাপারে বলেন মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ ললাজনামাহল্লাহ [মিউজিক] মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এবং তার সাথে যারা আছে তারা কাফেরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর পরস্পরের প্রতি সদয় তুমি তাদেরকে রুকুকারী সেজদাকারী অবস্থায় দেখতে পাবে হবে তারা আল্লাহর করুণা ও সন্তুষ্টি অনুসন্ধান করে। তাদের আলামত হচ্ছে তাদের চেহারায় সেজদার চিহ্ন থাকে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেন, তোমরা নিজেদের সাধ্য অনুযায়ী আমলের ভার বহন করো। আর জেনে রাখো তোমাদের সর্বোত্তম আমল হলো সালাত। তুমি যথাযথভাবে সালাতের উপর আমল করে যতটা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারবে অন্য কোনভাবে তা পারবে না। জেনে রাখো সালাতকে এজন্য সালাত হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে। কারণ যারা যথাযথভাবে সালাত আদায় করবে সালাত তাদেরকে জান্নাতে পৌঁছে দেবে। আর যারা সালাত তরক করবে সালাতের ব্যাপারে সৈথিল্য প্রদর্শন করবে। সালাত তাদেরকে জাহান্নামে পৌঁছে দেবে। সুতরাং তুমি কোন পথে চলতে চাও? ইবনে তাইমিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমার নিকট মাশায়েকদের মধ্য থেকে কেউ একজন বর্ণনা করেছেন, পরসের কোন এক বাদশা এক শায়েখকে বলেছিল যে কিনা রাজগানের আসর জমাতো হেশায়েখ এটা যদি জান্নাতের পথ হয় তাহলে জাহান্নামের পথ কোনটা? বিপদগামীদের অবস্থা হলো তারা খেল তামাশা ও গানবাজনায় সময় নষ্ট করে। পুণ্যের কোন কাজ করে না। এমনকি তারা পুণ্যের কাজ সম্পর্কে জানেও না। গুনাহের প্রতিটি কাজের সাথে তারা পরিচিত। তারা গায়ক গায়িকা ও নায়ক নায়িকাদের নাম জানে। এমনকি তাদের আচার আচরণ ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষা অভ্যাস পর্যন্ত জানে। তারা তাদের সব খবর রাখে। এমনকি কখনো কখনো তারা তাদের স্ত্রী সন্তান বন্ধু-বান্ধবদের নাম পর্যন্ত জানে। কিন্তু আফসোস তারা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লামের সিরাত সম্পর্কে কিছুই জানে না। তারা কোন সাহাবী সম্পর্কে জানে না। জানেনা উম্মাহাতুল মুমিনীনদের জীবন সম্পর্কে কিছুই। তারা পত্রপত্রিকা ও ম্যাগাজিন পড়ে। এর পেছনে শত শত টাকা খরচ করে। কিন্তু তারা কোরআন পড়ে না। কোরআন পড়ার জন্য এক মুহূর্ত সময় তাদের হাতে নেই। তারা গাড়িতে বাড়িতে উঠতে বসতে গান শোনে। গানের কলি গুনগুন করে গায়। গানের তালে তালে শরীর দোলাতে থাকে। কিন্তু কোরআন তেলাওয়াত শুনলে তাদের মন দলে ওঠে না। আল্লাহ তালা শয়তানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, [মিউজিক] আলাইহ [মিউজিক] তোরা আহানে তাদের মধ্য থেকে যাকে পারিস সত্যচেত কর তোর অসারহী পদাতিক বাহিনী দ্বারা তাদেরকে আক্রমণ কর তাদের ধন সম্পদে ও সন্তান সন্ততিতে শরিক হয়ে যা এবং তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দে শয়তান তাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেয় তা চলনা মাত্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম বলেন আমার উম্মতের মধ্যে অবশ্যই এমন কতগুলো দলের সৃষ্টি হবে যারা ব্যভিচার রেশমে কাপড় মদবদ্ধ যন্ত্রকে হালাল জ্ঞান করবে। তেমনি এমন অনেক দল হবে যারা পাহাড়ের ধারে বসবাস করবে। বিকেলবেলায় যখন তারা পশুপাল নিয়ে ফিরবে তখন তাদের নিকট কোন অভাব নিয়ে ফকির এলে তারা বলবে আগামীদিন সকালে তুমি আমাদের নিকট এসো। এদিকে রাতের অন্ধকারেই আল্লাহ তাদের ধ্বংস করে দেবেন। পর্বতটি ধসিয়ে দেবেন। আর বাকি লোকদেরকে তিনি কেয়ামতের দিন পর্যন্ত বনর শুকর বানিয়ে রাখবেন। ইবনু কাইমল জাউজিয়া রহমতুল্লাহি আলাই শিরক গ্রন্থে আলেমগণের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, সাবধান তুমি থেকো তাদের উপদেশদাতার ভূমিকায়। শোনার মত হৃদয়গ্রাহী উপদেশমালায়। মানুষ যখন তার দ্বীন সম্পর্কে জানবে গান যে শয়তানের আনুগত্য তা সে অবশ্যই বুঝবে। মানুষের জন্য গাঁধার গোশত খাওয়া যেমন পাপ তেমনি পাপ হলো গান বাজনা ও তার আলাপ। ফিলিস্তিন, আফগানিস্তান, চেচনিয়া, ইরাক, সিরিয়াস সহ প্রতিটি স্থানে মুসলমানের রক্ত ঝরছে। আর তারা মেতে আছে গান বাজনা নিয়ে। সকাল সন্ধ্যা গান বাজনা আর নাচ গানে ডুবে থাকে। কবি আব্দুর রহমান আল আশমাউজি বলেন, এইতো আকসা। তার ক্ষতগুলো গভীর থেকে গভীরতরা হচ্ছে। অথচ মুসলমান সকলে এক দেহের ন্যায়। সেখানে এতিমদের রক্ত স্পষ্ট লাঞ্ছনার সাক্ষ্য বহন করছে। আর তাদের চোখের মলিন চাহনিতে শোকের কালো ছায়া নেমে আসছে। হায় অপমান আমাদের। আমাদের যুবকদের আজ কি হলো? আমাদের কি কোন সাদ এবং কোন মেগদাত নেই? মুজাহিদগণ ট্যাংক, কামান আর বোমার আওয়াজের মধ্যে রাত কাটায়। আর এরা গায়েব গায়িকাদের গান শোনে ও নৃত্যশিল্পীদের নাচ দেখে রাত যাপন করে। এরা সর্বদা গুনাহী নিমজ্জিত থাকে। এদের অনুভূতি বলতে কিছুই নেই। বিপদগামীদের অবস্থা হলো তাদেরকে তুমি দেখবে বাজারে বিভিন্ন আড্ডায় নিজেদের প্রকাশ করতে খুব ভালোবাসে তারা সেখানে আড্ডাবাজি করে বিভিন্ন গল্প বলে বেড়ায় মানুষের দৃষ্টি নিজেদের দিকে আকর্ষণ করে আল্লাহ তাআলা এদের ব্যাপারে বলেন [মিউজিক] আলাইহ্লাহ [মিউজিক] আর যখন তুমি তাদের প্রতি তাকিয়ে দেখবে তখন তাদের শরীর তোমাকে মুগ্ধ করবে আর যদি তারা কথা বলে তুমি তাদের কথা আগ্রহ নিয়ে শুনবে তারা দেয়ালে ঠেস দেয়া কাঠের মতই তারা মনে করে প্রতিটি আওয়াজই তাদের বিরুদ্ধে এরাই শত্রু অতএব এদের সম্পর্কে সতর্ক হও আল্লাহ এদেরকে ধ্বংস করুন তারা কিভাবে সত্য থেকে ফিরে যাচ্ছে তাদের চিন্তা থাকে কিভাবে মুসলমানদের সম্মান নষ্ট করা যায় সরল মোনা মেয়েদের উত্তক্ত করা যায় এরা একবারওভ ভাবে না যে বাড়িতে তাদেরও তো মা বোন আছে। এরা বিপথেগামী। এরা অনুভূতিশূন্য। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামের নিকট এক যুবক এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে জিনার অনুমতি দিন। মজলুসে উপস্থিত সকলে তখন রাগে উত্তপ্ত হয়ে গেল। কিন্তু রাহমাতুল্লিল আলামিন শাফিউল মুজরিমিন অত্যন্ত দয়া ও কোমল কন্ঠে যুবকটিকে বললেন, তুমি নিকটবর্তী হও। যুবকটি যখন তার নিকটবর্তী হলো তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লাম বললেন তুমি এমন হীন কর্ম তোমার মায়ের জন্য পছন্দ করবে? যুবকটি বলল না আল্লাহর শপথ করে বলছি আপনার জন্য আমার মাতাপিতা উৎসর্গিত হোক। আমি এটা কখনোই পছন্দ করবো না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আ সাল্লাম বললেন [মিউজিক] অনুরূপভাবে অন্য মানুষও তাদের মায়েদের জন্য এমনটি পছন্দ করে না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আ সাল্লাম তাকে আবার বললেন তুমি কি তোমার বোনের জন্য এমনটি পছন্দ করবে? যুবকটি বলল না আল্লাহর শপথ করে বলছি আপনার জন্য আমার মাতাপিতা উৎসর্গিত হোক। আমি এটা কখনোই পছন্দ করবো না। এভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম তাকে বলতে লাগলেন তুমি কি তোমার ফুপুর জন্য তোমার খালার জন্য তোমার মেয়ের জন্য এমনটি পছন্দ করবে? আর যুবকটি বলতে লাগলো না আল্লাহর শপথ করে বলছি আল্লাহ তাআলা আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন। আমি এটা কখনোই পছন্দ করবো না। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম তার পবিত্র হাত যুবকটির গায়ের উপর রাখলেন এবং বললেন আল্লাহুম্মাফবাহার [মিউজিক] কলবাসান ফারজা হে আল্লাহ আপনি তার গুনাহ সমূহকে ক্ষমা করুন। তার অন্তরকে পবিত্র করুন এবং তার লজ্জাস্থানকে হেফাজত করুন। অতঃপর যুবকটি মজলিস থেকে উঠে দাঁড়ালো। এরপর থেকে তার কাছে জেনার চেয়ে অধিক নিকৃষ্ট আর কিছুই ছিল না। হে যুবক তোমরা যারা শাহওয়াত ও প্রবৃত্তি পূজায় ডুবে আছো। নিজের হারাম শাহওয়াত পুরা করার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা করছো, চেষ্টা করছো এবং এর জন্য দূর-দূরান্ত পর্যন্ত সফর করছো। তুমি খেতে সন্তুষ্ট থাকবে? যেটা তোমার পরিবারের জন্য হোক এই প্রশ্নের উত্তরের ভার আমি তোমার উপর ছেড়ে দিলাম। জেনে রাখো জিনা বা হারাম জনমেলনের চেয়ে বড় কোন অবাধ্যতা আর নেই। আর এজন্য আল্লাহ তালা বলেন ওলাতাহুফালা আর তোমরা ব্যভিচারের কাছে যেও না নিশ্চয়তা অশ্লীল কাজও মন্দ পথ আমি এখানে তোমার সামনে মুত্তাকিনদের একটি ঘটনা পেশ করছি হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাই বলেন ওমর বিন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর সময়ে এক যুবক ইবাদতের জন্য সর্বদা মসজিদে পড়ে থাকতো এক মহিলা সেই যুবকের প্রেমে পড়ে গেল ফলে নির্জনতার সময় মহিলাটি তার কাছে এল এবং তার সাথে কথা বলল। বিষয়টি নিয়ে একটু ভেবে দেখো। যুবকটি কিন্তু তার কাছে যায়নি। ঘটনার পর যুবক অনেক পেরেশান হয়ে গেল এবং ফুপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে সে বেহুশ হয়ে গেল। তখন তার চাচা এসে তাকে বাড়িতে নিয়ে গেল। অতঃপর যখন তার জ্ঞান ফিরল তখন বলল চাচা। আপনি ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকটে যান। এবং তাকে আমার সালাম দিয়ে বলুন যে আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোকে ভয় করে। তার প্রতিদান কি হবে? ছেলেটির চাচা। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকটে গিয়ে সংবাদ তাকে দিল। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তখন যুবকটির কাছে এলেন। ছেলেটি যখন তাকে দেখল তখন দীর্ঘশ্বাস টেনে কাঁদতে কাঁদতে মারা গেল। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তার পাশে দাঁড়িয়ে বললেন [মিউজিক] জান্নাতবা। যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের সামনে দাঁড়ানোকে ভয় করে তার জন্য রয়েছে দুইটি জান্নাত। সুতরাং তোমরা তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে? আল্লাহর শপথ করে বলছি আমি এই যুবককে ওই সাত শ্রেণীর লোকের অন্তর্ভুক্ত মনে করি যাদেরকে আল্লাহ তাআলা কেয়ামতের দিন নিজের ছায়া দান করবেন তার ছায়া ব্যতীত সেদিন আর কোন ছায়া থাকবে না সেই সাত শ্রেণীর লোকের মধ্যে এক শ্রেণী হল এমন লোক এমন যুবক যাকে এক সুন্দরী রমণী ডেকেছিল আর সে বলেছিল আমি আল্লাহকে ভয় করি হে গুনাহ ও অবাধ্যতায় নিমজ্জিত যুবক হে সীমাহীন অবাধ্য ও বেয়ারা স্বভাবের যুবক মুত্তাকী যুবক তো লাভবান হয়ে গেল আর তুমি তুমি তো ক্ষতিগ্রস্তদের দলে রয়ে গেলে অলিমান খফমাহ জান্নাতান যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের সামনে দাঁড়ানোকে ভয় করে তার জন্য রয়েছে দুইটি জান্নাত বিপদগামী লোকদের আরেকটা অবস্থা হলো পাপ অবাধ্যতা ও গুনাহের কাজগুলো তাদের অভ্যাসে পরিণত হয় এবং এটা তাদের নিকট একটা স্বাভাবিক বিষয় মনে হয় তারা চরম অবাধ্যতায় ডুবে থাকে আল্লাহ তাআলা এদের ব্যাপারে বলেন [মিউজিক] বাহ [মিউজিক] সাহাব লায়াকদিহলাজলিল্লাহনলাহন [মিউজিক] অথবা কাফেরদের অবস্থা বিশাল গভীর সমুদ্রে গভীর অন্ধকারের ন্যায় যাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে ঢেউের উপরে ঢেউ তার উপরে মেঘ একের পর এক অন্ধকারের স্তর র কেউ হাত বের করলে সে তা একেবারেই দেখতে পায় না। আল্লাহ যাকে আলো দান করেন না তার জন্য কোন আলো নেই। তারা অনিরাপদ অবিশ্বস্তভাবে জীবনযাপন করে। তাদের মনে কোন ধরনের প্রশান্তি ও স্থিরতা থাকে না। তারা অস্থির অশান্তিতে জীবন যাপন করে। বরং তুমি বলতে পারো তাদের এই বেঁচে থাকার মধ্যে কোন জীবনী শক্তি বাকি থাকে না। আসলে ঈমানবিহীন বেঁচে থাকাকে কি জীবন বলা যায়? আল্লাহ তাআলা বলেন লিল্লাজিনা আমানুলাম [মিউজিক] মহতাদন যারা ঈমান এনেছে এবং নিজ ঈমানকে জুলুমের সাথে সংমিশ্রণ করেনি তাদের জন্য নিরাপত্তা এবং তারাই হেদায়েত প্রাপ্ত গুনাহের কারণে তাদের অন্তর সর্বদা এক ধরনের আর্তনাত করতে থাকে গুনাহ তাদের অন্তরের ঈমানের নূরকে নিভিয়ে দেয় কিন্তু কিছু একটা না পাওয়া ও হারানোর আফসোস সর্বদা তাদের অন্তরে লেগে থাকে দুশ্চিন্তা তাদের নিদ্রাকে বিষাক্ত করে তোলে তারা সর্বদা পাপ পাপ গুনাহের অতল সাগরে ডুবে থাকতে চায়। তারা এক মুসিবত থেকে অন্য মুসিবতে পতিত হয়। এক দুশ্চিন্তা থেকে অন্য দুশ্চিন্তায় এবং এক পেরেশানি থেকে অন্য পেরেশানিতে পতিত হতে থাকে। তাদের এই দুশ্চিন্তা ও পেরেশানি তওবার জন্য নয়। এবং নয় আল্লাহকে স্মরণ করার জন্য। আল্লাহ তালা সত্য বলেছেন [মিউজিক] [মিউজিক] আর যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে তার জীবিকা হবে সংকীর্ণ। আর তাকে কেয়ামতের দিন উথিত করব অন্ধ অবস্থায়। সে বলবে হে আমার রব কেন আপনি আমাকে অন্ধ অবস্থায় উঠালেন? অথচ আমি তো ছিলাম চক্ষুমান। তাদের এই পথভ্রষ্টতা অবাধ্যতার কারণে। সেদিনও তারা আল্লাহ তাআালার সাথে বিতন্ডায় লিপ্ত হবে। তারা বলবে [মিউজিক] [মিউজিক] সে বলবে হে আমার রব কেন আপনি আমাকে অন্ধ অবস্থায় উঠালেন অথচ আমি তো ছিলাম দৃষ্টি শক্তি সম্পন্ন তিনি বলবেন এমনিভাবেই তোমার নিকট আমার নিদর্শনা বলে এসেছিল কিন্তু তুমি তা ভুলে গিয়েছিলে এবং সেভাবেই আজ তোমাকে ভুলে যাওয়া হলো আর এভাবেই আমি প্রতিফল দান করি তাকে যে বাড়াবাড়ি করে এবং তার রবের নিদর্শনাবলীতে ঈমান না আনে। আর আখেরাতের আজাব তো অবশ্যই কঠোরতর অধিকতর স্থায়ী। তারা তো গুনাহে ডুবে আছে তবুও তারা তওবার চিন্তা করে না। এবং অন্তরে লজ্জা অনুভব করে না। তাদের অন্তরে যেন মোহর মেরে দেয়া হয়েছে। তারা বিভিন্ন নসিহ শোনে। কিন্তু এর থেকে তারা উপদেশ গ্রহণ করে না। তারা মৃতদেহ দাফন করে। কিন্তু নিজেরা সতর্ক হয় না। হক দেখে ও জেনেও তা গ্রহণ করে না। তাদেরকে সত্য পথের দিকে আহ্বান করা হয়। কিন্তু তারা সে আহবানে সাড়া দেয় না। আমরা তাদেরকে আল্লাহ তাালার এই বাণী শোনাবো। আল্লাহ তালা বলেন, [মিউজিক] আল্লাহ [মিউজিক] মবেন হে আমাদের সম্প্রদায় আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর সাড়া দাও এবং তার প্রতি ঈমান আনো আল্লাহ তোমাদের গুনাহ মাফ করে দেবেন আর তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক আযাব থেকে রক্ষা করবেন আর যে আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দেবে না সে জমিনে তাকে অপারক্কারী নয় আর আল্লাহ ছাড়া তার কোন অভিভাবক নেই এরা স্পষ্ট বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে এখানে বিপদগামীদের কিছু অবস্থা বর্ণনা করলাম এবার আমরা বিপদগামীদের কিছু ঘটনা শুনবো তাদের অবস্থা হলো তাদের কোন এক সাথী যখন তওবা করে মুক্তির নৌকায় আরোহণ করে তখনই তারা তার বিরুদ্ধে প্রচার যুদ্ধ শুরু করে। তারা তাদের অপবাদের তীর তার দিকে নিক্ষেপ শুরু করে। তার ভুল ত্রুটি ও পদস্খোলনের বিষয়গুলো প্রচার করতে থাকে। তাদের একজন বলে এভাবে সে বেশিদিন থাকতে পারবে না। অচিরেই পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসবে। অপরজন বলে কয়েকদিন বা কয়েক সপ্তাহ পরেই সে আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসবে। অপর আরেকজন তাকে নসিহত করে বলে তুমি তো ভালোই ছিলে। তাহলে হঠাৎ করে এমন পরিবর্তন যে সুবহানাল্লাহ সালাত আদায় করে না রোজা রাখে না আল্লাহর বিধিনিষেধগুলো মানে না সর্বদা গুনাহ ও অবাধ্যতার সমুদ্রে ডুবে থাকে অথচ সে বলে কি তুমি তো ভালোই ছিলে কিসের ভালো এটা আল্লাহ তালা বলেন রহমান [মিউজিক] নাকমাতারনাল্লাহ [মিউজিক] আলাইহবিল্লা [মিউজিক] ইন্নালা মুস্তাকিম নাহুলাদিকর্লাকামিকুন আর যে পরম করুণাময়ের জিকির থেকে বিমুখ থাকে আমি তার জন্য এক শয়তানকে নিয়োজিত করি ফলে সে হয়ে যায় তার সঙ্গী আর নিশ্চয় তারাই শয়তান মানুষদেরকে আল্লাহর পথ থেকে বাধা দেয় অথচ মানুষ মনে করে তারা হেদায়েত প্রাপ্ত অবশেষে যখন সে আমার নিকট আসবে তখন সে তার শয়তান সঙ্গীকে উদ্দেশ্য করে বলবে হায় আমার ও তোমার মধ্যে যদি পূর্ব পশ্চিমের ব্যবধান থাকতো সুতরাং কতই না নিকৃষ্ট সে সঙ্গী আর আজ তা তোমাদের এই অনুতাপ তোমাদের কোন উপকারে আসবে না যেহেতু তোমরা জুলুম করেছিলে নিশ্চয় তোমরা আজাবে পরস্পর অংশীদার হয়ে থাকবে তুমি কি বধিরকে শোনাতে পারবে অথবা হেদায়েত করতে পারবে অন্ধকে এবং তাকে যে স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় রয়েছে অতঃপর যদি আমি তোমাকে নিয়ে যাই তবে নিশ্চয় আমি তাদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করব অথবা আমি তাদের যে শাস্তির ওয়াদা দিয়েছি তা যদি তোমাকে প্রত্যক্ষ করাই তবে নিশ্চয় আমি তাদের উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান থাকবো। অতএব তোমার প্রতি যা ওহী করা হয়েছে তাকে তুমি সুদীরভাবে ধারণ করো। নিশ্চয় তুমি সরল পথের উপর রয়েছো। নিশ্চয় কোরআন তোমার জন্য এবং তোমার কওমের জন্য উপদেশ। আর অচিরেই তোমাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে। পথভ্রষ্টদের অবস্থা এমনই হয়ে থাকে। তারা একাকী গুনাহের অতল সাগরে ডুব দিতে চায় না। তুমি যদি তাদেরকে উদ্ধার করতে চাও তাহলে সে তোমাকেও তাদের সাথে ডুবিয়ে দিতে চাইবে। যেমনভাবে বলা হয়ে থাকে জেনাকারী নারী কামনা করে পৃথিবীর সকল নারী যদি তার মত জিনাকারিণী হয়ে যেত তাদের বিষয়টা সত্যি আশ্চর্যজনক। তাদের কোন সাথী সৎপথে চললে হেদায়েতের উপর অটল থাকলে খুশি হওয়ার পরিবর্তে তারা পরিকল্পনা করতে থাকে যে কিভাবে তাকে অবাধ্যতা ও গুনাহের সমুদ্র তীরে টেনে আনা যায়। আমি এক যুবকের তওবার ঘটনা জানি। যে পুণ্যের উপর অটল থেকে মুক্তির নৌকায় আরোহণ করেছে। সে নিয়মিত সালাত আদায় শুরু করে। এবং কোরআন মুখস্ত করতে শুরু করে। সে তার গুনাহ ও অবাধ্যতায় নিমজ্জিত বন্ধুদেরকে হেদায়েতের পথে নিয়ে আসার চেষ্টা করে এবং তাদেরকে সৎপথে ফিরে আসার নসিহত করতে থাকে। সে কামনা করে তার সকল বন্ধু যেন তার সাথে তওবা ও মুক্তির নৌকায় আরোহণ করে এবং তারা সকলে মিলে সৎপথে ফিরে আসার কাফেলা যুক্ত হয়ে যায়। এ উদ্দেশ্যে সে তার বন্ধুদের সাথে সাক্ষাত করে। হায় যদি সে এই সাক্ষাত না করতো। নতুন পথের পথিক যারা সবেমাত্র তওবা করেছ এবং হেদায়েতের পথে ইস্তাকামাতের সাথে চলতে শুরু করেছে। তাদেরকে বলছি তুমি একাকি তোমার পুরনো বন্ধুদের সাথে সাক্ষাত করতে যাবে না। তাদেরকে যদি হেদায়েতের পথে আনতেই চাও তাহলে তোমার সাথে নেককার অভিজ্ঞ কাউকে নিয়ে যাও। কারণ জামাতবদ্ধ কম শক্তিশালীরাও সাহসী শক্তিশালী বীরযোদ্ধাকে পরাজিত করে দেয়। বন্ধুদের হেদায়েতের দাওয়াতের জন্য যুবকটি তাদের সাথে সাক্ষাত করল। তখন চারপাশ থেকে সকলে মিলে তার উপর বিতন্ডার তীর নিক্ষেপ করতে শুরু করল। তারা সকলে তাকে বলতে লাগলো তুমি কি অমুক অমুক দিনকে ভুলে গেছো তাদের আওয়াজ অনেক উঁচু হতে লাগলো তারা তাকে নিয়ে হাসাহাসি করতে শুরু করে বন্ধুরা তার পুরনো ক্ষথে যেন মরিচের ছিটে দেয় বিরক্ত হয়ে সে তাদের কাছ থেকে উঠে চলে আসে তারা তার অন্তরে চাপা পড়া অনেক বিষয়কে নাড়া দিয়ে উপরে উঠিয়ে দিল কয়েকদিন পর তারা যুবকটির নিকটে এলো এবং কাছের একটি বিপনন কেন্দ্র থেকে একটি গাড়ি কেনার জন্য তাকে সঙ্গে করে নেয়ার প্রস্তাব করল আমরা এমন একজনকে আমাদের সাথে সফরে নিয়ে যেতে চাই যে আমাদেরকে আল্লাহর কথায় স্মরণ করিয়ে দেবে এবং আমাদের সালাতের ইমামতি করবে। আমাদেরকে জামা ও কসরের বিধান শেখাবে। তাদের এমন প্রস্তাবে সে তাদের সাথে সফরে বের হওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ হয় এবং তাদের সাথে বের হয়। হায় সে যদি তাদের সাথে না বের হতো। তারা এমন এক স্থানে গেল যেখানে আল্লাহর নাফরমানি করা হয়। তারা উন্নতমানের একটি হোটেলে উঠলো। তাকে একটি কামড়ায় রেখে সকলে বের হয়ে গেল। তারা সকলে মিলে পরিকল্পনা করতে শুরু করল। কিভাবে তাকে আবার গুনাহের দরিয়ায় ডুবিয়ে দেয়া যায়। তারা সে রাত্রটি মধ্য পান করে গানের আসরে কাটিয়ে দিল। আর যুবকটি হোটেলের কামড়ায় তাদের জন্য অপেক্ষা করছিল। তারা একটি দুশ্চরিত্রা বেশার সাথে চুক্তি করল যে সে যদি তাকে গুনাহের কাজে লিপ্ত করতে পারে তাহলে তারা তাকে অনেক টাকা দেবে। আল্লাহু আকবার। একজন মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে ফিরিয়ে রাখার জন্য টাকা খরচ করছে। তারা মদ ও গানের ক্যাসেট সহ মেয়েটিকে তার কামড়ায় প্রবেশ করিয়ে দিল। মদ মানুষের আকলকে বিকল করে দেয়। আর গান মানুষকে জেনার দিকে টেনে নিয়ে যায়। মেয়েটি আর ছেলেটি নির্জন একটি কামড়ায় সময় কাটাতে লাগলো। আর যখন কোন নারী আর পুরুষ নির্জনে মিলিত হয় তখন শয়তান তাদের তৃতীয়জন হিসেবে সেখানে উপস্থিত হয়। মেয়েটি বিভিন্নভাবে ফুসলিয়ে তাকে প্রথমে এক গ্লাস মদ পান করালো। তারপর দ্বিতীয় এরপর তৃতীয় গ্লাস পান করালো। তারপর সে তার সাথে ফাহেশা কাজে লিপ্ত হলো। এবং কিছুক্ষণ অচেতন হয়ে পড়ে রইল। তারপর চেতনা ফেরার পর আবারো তারপর আবারও এরপর বিছানার উপর উলঙ্গ হয়ে অচেতন নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়ল নাউজুবিল্লাহি মিন জালিক সকালে মানব শয়তানগুলো এসে দরজায় করাঘাত করতে লাগল তাদের অট্টহাসিতে চারদিক প্রকম্পিত হচ্ছিল পাপাচারী নারীটি দরজা খুলে দিল তখন তারা তাকে বলল তারপর বল কোন সুসংবাদ আছে কিনা পেশাটি বলল তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো সে সবকিছুই করেছে মধ্যপান করেছে জেনা করেছে তারপর ঘুমিয়ে গেছে। এখন সে বিছানোর পর উলঙ্গ অবস্থায় ঘুমিয়ে আছে। আল্লাহ এদেরকে এবং এদের মত যারা আছে তাদেরকে ধ্বংস করুন। এরা কি আল্লাহর অবাধ্যতা ও নাফরমানী হওয়ার কারণে খুশি হচ্ছে? তাদের একসাথে যেনা করার কারণে তারা আনন্দিত হচ্ছে। সে সালাত আদায় করার পর কোরআন পড়া শুরু করার পর আবার মদ পান করাতে তারা খুশি হচ্ছে। তারা হাসতে হাসতে তাকে তিরস্কার করতে করতে কামড়ায় প্রবেশ করল। সে তখন চাদর মুড়ি দিয়ে বিছানার উপর শুয়েছিল। তারা তাকে জাগ্রত করার জন্য তার নাম ধরে ডাকতে লাগলো। এই অমুক এই ওঠো ওঠো। কিন্তু সে তাদের ডাকে সাড়া দিল না। তারা বারবার তাকে ডাকতে লাগলো। কিন্তু তার কোন সারা শব্দ নেই। তারা তার কাছে গিয়ে তাকে ধরে ধাক্কা দিতে লাগল। কিন্তু তবুও সে উঠলো না। সে চিরদিনের জন্য ঘুমিয়ে গেছে। আর কখনো সে জাগ্রত হবে না। বন্ধুরা আমার শোনো। ছেলেটি মধ্য পান করল। তারপর জিনা লিপ্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ল। অতঃপর সে রাতেই তার বিছানার উপর মারা গেল। ছেলেটির মন্দ পরিসমাপ্তি হলো ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। হয় আল্লাহ ছেলেটি তার বন্ধু ছিল। সে সালাত আদায় করত। সিয়াম পালন করত এবং কোরআন তেলাওয়াত করত। সে তো তাদেরকে সৎপথে আহ্বান করার জন্য গিয়েছিল। সে তাদের হেদায়েত চাইতো। আর তারা তাকে পথভ্রষ্ট করতে চেয়েছে। তাকে পথভ্রষ্ট করার জন্য তারা অর্থ ব্যয় করেছে। সময় ব্যয় করেছে। যেন তারা তাকে আল্লাহর পথ থেকে ফিরিয়ে রাখতে পারে। এখন প্রশ্ন হলো এরা কি তাকে আল্লাহর আজাব থেকে রক্ষা করতে পারবে? এরা কেমন বন্ধু? আল্লাহ সত্য বলেছেন সলাইলাশ। [মিউজিক] আর সেদিন জালিম নিজের হাত দুটো কামড়ে বলবে হায় আমি যদি রাসূলের সাথে কোন পথ অবলম্বন করতাম হায় আমার দুর্ভোগ আমি যদি অমুককে বন্ধুর রূপে গ্রহণ না করতাম অবশ্যই সে তো তোমাকে উপদেশবাণী থেকে বিভ্রান্ত করেছিল আমার কাছে তা আসার পর আর শয়তান তো মানুষের জন্য চরম প্রতারক তুমি কোন ফাসেককে বন্ধু বানিও না তার থেকে সর্বদা দূরত্ব বজায় রাখবে কত ফাসেক যে আল্লাহর আনুগত বান্দাকে ধ্বংস করেছে তার সাথে বন্ধুত্ব করার বিপথগামীদের অবস্থা এমনিই। তুমি তাদেরকে উদ্ধার করতে চাইবে। আর তারা তোমাকে ডুবিয়ে দেয়ার জন্য পরিকল্পনা করবে। কারণ তারা তো ডুবন্ত। আল্লাহ বলেন [মিউজিক] সুতরাং কিছু সময়ের জন্য তাদেরকে সে বিভ্রান্তিতে থাকতে দাও। তারা কি মনে করছে যে ধন সম্পদ ও সন্তান সন্ততি থেকে যা আমি তাদেরকে দেই এর দ্বারা কি তাদের কল্যাণ তরান্বিত করছি না তারা বোঝে না অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন আফমা [মিউজিক] তুমি কি লক্ষ্য করেছ আমি যদি তাদেরকে দীর্ঘকাল ভোগ বিলাসের সুযোগ দিতাম অতঃপর তাদেরকে যে বিষয়ে ওয়াদা করা হয়েছে তা তাদের নিকট এসে পড়তো তখন যা তাদের ভোগবিলাসের জন্য দেয়া হয়েছিল তা তাদের কোনই কাজে আসতো না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম বলেন, নিশ্চয় মানুষের মধ্যে এমন মানুষ রয়েছে যারা কল্যাণের চাবিকাঠি এবং অকল্যাণ বন্ধকারী। আবার মানুষের মধ্যে এমন মানুষও রয়েছে যারা অকল্যাণের চাবিকাঠি এবং কল্যাণ বন্ধকারী। সুতরাং সুসংবাদ তাদের জন্য যাদের হাতকে আল্লাহ তাআলা কল্যাণের চাবিকাঠি বানিয়েছেন। আর ধ্বংস তাদের জন্য যাদের হাত আল্লাহ তাআলা অকল্যাণ করান। হাদিসটি ইবনে মাজাতে এসেছে। শাইখ আলবানী রহমতুল্লাহি আলাইহ হাদিসটিকে হাসান বলেছেন গুনাহ তাদের কি পরিণতি করবে আল্লাহ তালা বলেন আওলাফরদিনাল্লাহ্লাহ [মিউজিক] [মিউজিক] [মিউজিক] এরা কি জমিনে বিচরণ করে না? তাহলে দেখতো তাদের পূর্বে যারা ছিল তাদের পরিণতি কেমন হয়েছিল। তারা এদের তুলনায় জমিনে শক্তিমত্তা ও প্রভাব বিস্তারে প্রবলতর ছিল। অতঃপর আল্লাহ তাদের পাকড়াও করলেন তাদের পাপাচারের কারণে। আর তাদের জন্য ছিল না। আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন রক্ষাকারী। এটা এজন্য যে রাসূলগণ তাদের কাছে স্পষ্ট নিদর্শন নিয়ে এসেছিল। কিন্তু তারা তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। তখন আল্লাহ তাদেরকে পাকড়াও করেছিলেন। তিনি প্রবল শক্তিধর শাস্তিদানে কঠোর। ভাই শোনো পাপঙ্কিলতার অবাধ্যতা কি করতে পারে? এই পাপঙ্কিলতার অবাধ্যতার কারণে যে পৃথিবীর কত ব্যক্তি জাতি আর জনগোষ্ঠী ধ্বংস হয়েছে তার কি কোন হিসেব আছে? দুনিয়া ও আখেরাতে যত অকল্যাণ হয় বা হবে তার সবকিছুই গুনাহ ও অবাধ্যতার কারণে হয়ে থাকে। আল্লাহ তালা বলেন, মসবাহ [মিউজিক] ইন্নাল্লাহা আলা কুল্লিশ কদির যখন তোমাদের উপর একটি মুসিবত এসে পৌঁছালো অথচ তোমরা তার পূর্বে দ্বিগুণ কষ্টে পৌঁছে গিয়েছ তখন কি তোমরা বলবে এটা কোথা থেকে এল তাহলে বলে দাও এ কষ্ট তোমাদের উপর পৌঁছেছে তোমাদেরই পক্ষ থেকে নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ের উপর ক্ষমতাশীল কোন জিনিসের কারণে ইবলিশ বিতাড়িত অভিশপ্ত হলো ফেরেশতাদের সর্দার থেকে শয়তানের সর্দার হলো রহমত প্রাপ্ত থেকে অভিশপ্ত হলো। মুমিন থেকে কাফের হলো। আল্লাহর প্রিয় বান্দা থেকে সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যক্তিতে পরিণত হলো। সে এত ইবাদত বন্দেগীর পরও ফসক ফুজজারদের সরদার হল। সে তার সারা জীবনের এবাদতের বিনিময়ে ঈশ্বরদের গ্রহণ করল। আল্লাহ তালা শয়তানকে বলেন জাহান্নাম। তিনি বললেন তুই এখান থেকে অপমানিত লাঞ্ছিত অবস্থায় বের হয়ে যাদের বনি আদমদের মধ্যে যারা তোর অনুসরণ করবে নিশ্চয়ই আমি তোদের সকলের দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করব আল্লাহ আমাদের শয়তানের ধোকা থেকে সাবধান থাকতে বলেছেন। আল্লাহ বলেন ইয়া আদামালাক [মিউজিক] [প্রশংসা] [মিউজিক] জান্নাত [মিউজিক] আউলিয়া আল্লা হে আদম সন্তান শয়তান যেন তোমাদেরকে কিছুতেই ফেতনায় ফেলতে না পারে যেমনভাবে তোমাদের পিতামাতাকে আদম হাওয়াকেজান্না থেকে বের করেছিল। সে তাদের পরস্পরকে লজ্জাস্থান দেখানোর জন্য তাদের দেহ হতে পোশাক খুলিয়ে ফেলেছিল। সে আর তার সাথীরা তোমাদেরকে এমনভাবে দেখতে পায় যে তোমরা তাদেরকে দেখতে পাও না। যারা ঈমান আনে না। তাদের জন্য আমি শয়তানকে অভিভাবক বানিয়ে দিয়েছি। কোন জিনিস তাকে এই অবস্থাতে নিক্ষেপ করল? নিশ্চয়তা পাপ অবাধ্যতা ও আল্লাহর আদেশের সামনে অহংকার প্রদর্শন করা। নূহ আলাইহি সালামের সময় সমস্ত পৃথিবীবাসীকে পানিতে ডুবিয়ে দিয়েছিল। কোন জিনিস? এমনকি পাহাড়ের উপর থাকা মা ও তার শিশু সন্তান সহ কোন জিনিস তাদেরকে পানিতে ডুবিয়ে দিল কোন জিনিস হাত জাতির উপর প্রবল বাতাস প্রবাহিত করল যার ফলে তারা জমিনের উপর মড়ে পড়ে রইল কোরআনে তাদের অবস্থার বর্ণনা এসেছে এভাবে আল্লাহ তালা বলেন কন্নাহ যেন তারা পুরাতন শুকন খেজুর গাছের কান্ড সামুদ সম্প্রদায়ের উপর কোন জিনিস প্রবল আওয়াজ নিয়ে এসেছিল যার ফলে তাদের অন্তর তাদের পেটের মধ্যে ঢুকে গিয়েছিল এবং তাদের সকলে মৃত্যুবরণ করেছিল। কোন জিনিস ফেরাউন ও তার সম্প্রদায়কে সমুদ্রে ডুবিয়ে দিয়েছিল। তাদের দেহ ছিল ডুবন্ত আর রুহ ছিল জ্বলন্ত। এর উত্তর একটাই তা হল পাপ অবদ্ধতা। আল্লাহ তালা বলেন [মিউজিক] [প্রশংসা] আলাইহ স বাফজার [মিউজিক] [মিউজিক] সাদ সম্প্রদায় সজরে আঘাতকারী কেয়ামতকে অস্বীকার করেছিল আর সাদ সম্প্রদায় তাদেরকে বিকট শব্দ দ্বারা ধ্বংস করা হয়েছিল। আরাত সম্প্রদায় তাদেরকে ধ্বংস করা হয়েছিল প্রচন্ড ঠান্ডা ঝঞ্জা বায়ু দ্বারা যা তাদের উপর প্রবাহিত হয়েছিল সাত রাত আট দিন বিরামহীনভাবে। তুমি দেখতে তারা পড়ে আছে দস্তত বিক্ষিপ্ত। যেন তারা পুরাতন শুকন খেজুর গাছের কান্ড। তারপর তুমি কি তাদের জন্য কোন অবশিষ্ট কিছু দেখতে পাও? ফেরাউন আর তার পূর্ববর্তীরা আর উল্টে দেয়া জনপদবাসীরা গুরুতর পাপে লিপ্ত ছিল। তারা তাদের প্রতিপালকের রাসূলকে অমান্য করেছিল। তখন তিনি তাদেরকে পাকড়াও করলেন। অত্যন্ত কঠিন পাকড়াও। যখন জলোচ্ছ্বাস হলো অবশ্যই তখন আমি তোমাদেরকে নৌজানে আরোহণ করিয়েছি। যেন এই ঘটনাটিকে আমি তোমাদের জন্য শিক্ষা প্রদর্শারোপ করে রাখি। আর সংরক্ষণকারী কান তা সংরক্ষণ করে। কোন জিনিস তাদেরকে অবস্থার মধ্যে নিয়ে পথিত করেছিল? এর উত্তর একটাই তা হলো পাপ অবাধ্যতা। কোন জিনিস লুত আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়কে তাদের গ্রামসহ আসমান পর্যন্ত উঠিয়েছিল এমনকি সেখান থেকে তাদের কুকুরের আওয়াজ পর্যন্ত শোনা গিয়েছিল| অতঃপর সেখান থেকে তাদেরকে উল্টিয়ে মাটিতে নিক্ষেপ করা হয়েছিল ফলে তারা সমলে ধ্বংস প্রাপ্ত হয়েছিল অতঃপর তাদের উপর আসমান থেকে পাথরের বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছিল তাদের ব্যাপারটি নিয়ে একটু চিন্তা করো আল্লাহ তালা বলেন লামমাজনাফলাহ [মিউজিক] আলাইহ হজারতাম সজমাদুদ মুসমাতনাবাদ [মিউজিক] অতঃপর যখন আমার আদেশ এসে গেল তখন আমি জনপদের উপরকে নিচে উল্টে দিলাম এবং ক্রমাগত পোড়া মাটির পাথর বর্ষণ করলাম যে প্রস্তর খন্ডের প্রতিটি তোমার প্রতিপালকের নিকট চিহ্নিত ছিল জালিমদের জন্য শাস্তি বেশি দূরের ব্যাপার নয় তাদের ধ্বংসের মূল কারণ কি ছিল নিশ্চয় তা অত্যন্ত জঘন্যতম পাপ ও অপরাধ আর তা হলো স্বাভাবিক নিয়ম এর বাইরে গিয়ে পুরুষে পুরুষের সমকামী হওয়া। তুমি কি জানো কোন জিনিসের কারণেশোয়েব আলাইহি সালামের জাতির উপর প্রশান্তিদায়ক ছায়ার আকৃতিতে আজাবের মেঘ এসেছিল। অতঃপর যখন সে মেঘ তাদের উপরে এল তখন তাদের উপর তা আগুনের বৃষ্টি বর্ষণ করল। কোরআনের ভাষায় শুনুন যখন তারা তাদের নবীর কথা মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। তখন তাদের অবস্থা কি হলো? আল্লাহ তালা বলেন ইন্নাহুম। ইন্নাফিজালিকলায়া ওমা রব্বাকলাহ আজিজুর রাহিম অতঃপর তারা তাকে অস্বীকার করল ফলে তাদেরকে এক মেঘাচ্ছন্ন দিবসের আজাব পাকড়াও করল অবশ্যই তা ছিল এক মহাদিবসের আজাব নিশ্চয় এতে অনেক নিদর্শন রয়েছে আর তাদের অধিকাংশই মুমিন ছিল না আর তোমার প্রতিপালক তিনি অবশ্যই মহা প্রতাপশালী বড়ই দয়ালু কোন জিনিসের কারণে কারণ তার ঘরবাড়ি ধনসম্পদ সবকিছু সহকারে মাটির নিচে চাপা পড়েছিল। নিশ্চয় কারণ ছিল মুসার কম ভুক্ত। অতঃপর সে তাদের উপর অধ্যত্ব প্রকাশ করে। অথচ আমি তাকে এমন ধনভান্ডার দান করেছিলাম যে নিশ্চয় তার চাবিগুলো একদল শক্তিশালী লোকের উপর ভারী হয়ে যেত। স্মরণ করো যখন তার কওম তাকে বলল দম্ভ করো না। নিশ্চয় আল্লাহ দাম্ভিকদের ভালোবাসেন না। আল্লাহ তালা বলেন আমার আর যখন আমি কোন জনপদ ধ্বংস করার ইচ্ছা করি তখন তার সম্পদশালীদেরকে সৎ কাজের আদেশ করি অতঃপর তারা তাতে সীমালঙ্ঘন করে তখন তাদের উপর নির্দেশটি সাব্যস্ত হয়ে যায় এবং আমি তা সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত করি মুসনাদে আহমদে এসেছে আব্দুর রহমান বিন জুবায়ের তার পিতা থেকে বর্ণনা করে বলেছেন যখন সাইপ্রাস বিজয় হল এবং তার সম্প্রদায়কে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হল তখন তখন তারা একে অপরের জন্য কান্না করছিল। তিনি বলেন, আমি তখন আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে এক জায়গায় একা একে বসে বসে কাঁদতে দেখে বললাম, হে আবু দারদা, তুমি এমন সম্প্রদায়ের জন্য কাঁদছো কেন? যাদের উপর আল্লাহ তাআলা ইসলামকে বিজয়ী করেছেন। তখন তিনি বললেন, ধিক তোমাকে হে জুবায়ের। সৃষ্টির মধ্যে যারা আল্লাহ তাআালার আদেশ অমান্য করে। তারা আল্লাহর নিকট কতই না নিকৃষ্ট ও দুর্বল। অথচ তারা ছিল এক শক্তিধর পরাক্রমশালী জাতি। তাদের ছিল বিস্তৃত রাজত্ব। তারা আল্লাহর আদেশ অমান্য করেছে। ফলে তাদের যে অবস্থা হওয়ার তেমনই হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, এ হচ্ছে জনপদ সমূহের কিছু সংবাদ যা আমি তোমার কাছে বর্ণনা করছি। তা থেকে কিছু আছে বিদ্যমান এবং কিছু হয়েছে বিলুপ্ত। আর আমি তাদের উপর জুলুম করিনি। বরং তারা নিজেদের উপর জুলুম করেছে। তারপর যখন তোমার রবের নির্দেশ এল তখন আল্লাহ ছাড়া যেসব উপাস্যকে তারা ডাকতো তারা তাদের কোন উপকার করেনি। এবং তারা ধ্বংস ছাড়া তাদের আর কিছুই বৃদ্ধি করেনি। আর এরূপে হয় তোমার রবের পাকরাও যখন তিনি পাকরাও করেন অত্যাচারী জনপদ সমূহকে নিঃসন্দেহে তার পাকড়াও বড় যন্ত্রণাদায়ক কঠোর। এতে অবশ্যই নিদর্শন আছে তার জন্য যা আখেরাতের শাস্তিকে ভয় করে। এটা এমন দিন যে দিনের জন্য সব মানুষকে একত্র করা হবে। এটা হাজির হওয়ার দিন। আর নির্দিষ্ট কিছু কালের জন্যই আমি তা বিলম্বিত করছি। সেদিন যখন আসবে তখন তার অনুমতি ছাড়া কেউ মুখ খুলতে পারবে না। তাদের কেউ হবে হতভাগা আর কেউ হবে সৌভাগ্যবান। সরল পথের সন্ধানদাতা আল্লাহর শক্তিমত্তা দেখে আমার চিত্ত বিশিত হয়ে যায়। তিনি সৃষ্টিজীবের জন্য মৃত্যু নির্ধারণ করে রেখেছেন। ফলে কত মানুষের মৃত্যু হলো। কত জাতি বিনাশ হলো আর কত দেশ ধ্বংস হলো? তার কি কোন হিসেব আছে? কোথায় নমরুদ আর কোথায় কেনান? কোথায় সম্পদশালী আর পূর্বের রাজা প্রজারা মজবুত প্রাসাদ নির্মাণকারী সেই শাসকরা কোথায় যারা থাকার জন্য মজবুত ও শক্ত প্রাসাদ নির্মাণ করেছিল তারা সকলেই ধ্বংস হয়ে গেছে তাদের উঁচু মজবুত প্রাসাদ তাদের কোন কাজেই আসেনি আল্লাহ তাদের সকলকেই পুনরুত্থিত করবেন এবং প্রত্যেক কর্মীকে তার কর্ম অনুযায়ী প্রতিদান দেয়া হবে সফল লোক যারা মুক্তির নৌকায় আরোহণ করেছে এবার তাদের ঘটনা শোনো এক রমজানের 29 তারিখে কিয়ামুল লাইলে আমরা সূরা সদ সূরা দোখান তেলাওয়াত করছিলাম তেলাওয়াতরত অবস্থায় যখন হাজকরনাল মুত্তাকলামা এ হচ্ছে স্মৃতিচারণ মুত্তাকীদের জন্য অবশ্যই আছে উত্তম প্রত্যাবর্তন স্থল এ আয়াত পর্যন্ত পৌঁছেই তখন 20 বছরের এক যুবক কান্না শুরু করল এবং অনেক উঁচু আওয়াজে কাঁদতে লাগলো কোরআনের আয়াত ছেলেটার হৃদয় ও তার পূর্ণ অস্তিত্বই কাঁপিয়ে দিয়েছে তার কান্নার আওয়াজ অন্যান্য মুসল্লিদেরও ছুয়ে গেল এরপর সূরা সূরা দোখান তেলাওয়াত শুরু হলো এবং একটি সম্পূর্ণ জাতির পরিপূর্ণ নির্মূলের ঘটনা বর্ণনার আয়াতে এলো। আল্লাহ তাআলা বলেন, আর অবশ্যই এদের পূর্বে আমি ফেরাউনের কওমকে পরীক্ষা করেছিলাম এবং তাদের কাছে এসেছিল এক সম্মানিত রাসূল। সে বলেছিল, আল্লাহর বান্দাদেরকে আমার কাছে অর্পণ করো। আমি তোমাদের জন্য প্রেরিত বিশ্বস্ত রাসূল এবং তোমরা আল্লাহর বিরুদ্ধে উদ্ধত হয় না। আমি তোমাদের নিকট উপস্থিত করছি স্পষ্ট প্রমাণ। আর তোমাদের প্রস্তর আঘাত থেকে আমি আমার রব ও তোমাদের রবের কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। তোমরা যদি আমার প্রতি বিশ্বাস না আনো কমপক্ষে আমার কাছ থেকে দূরে থাকো। কিন্তু তারা ছিল আক্রমণমুখী। তখন সে তার পালনকর্তার নিকট দোয়া করল। এরা অপরাধী জাতি। তখন আমি বললাম তুমি আমার বান্দাদেরকে নিয়ে রাতের বেলায় বের হয়ে পড়ো। তোমাদের পিছু ধাওয়া করা হবে। আর সমুদ্রকে স্থির থাকতে দাও। তারা এমন এক বাহিনী যারা নিমজ্জিত হবে। তারা ছেড়ে গিয়েছিল কত উদ্যান আর ঝরণা। শ্যামল শস্যক্ষেতরম্য বাসস্থান আর নানা বিলাস সামগ্রী যাতে তারা আনন্দ উপভোগ করতো এমনটাই হয়েছিল অতঃপর আমি অন্য জাতির লোকদেরকে সেসবের উত্তরাধিকারী করে দিয়েছিলাম আসমান আর জমিন তাদের জন্য কাঁদেনি আর তাদেরকে একটু অবসরও দেয়া হয়নি এই আয়াতগুলো শুনে আমাদের সেই সাথী কান্না আর ধরে রাখতে পারলো না সে হাওমাউ করে কাঁদতে লাগলো এই আয়াতগুলোর প্রভাব এতই তীব্র যেগুলো মানুষের অন্তরকে নাড়িয়ে দেয় এই আয়াতগুলোর মর্ম মানুষের সিরাউপ গিয়ে পৌঁছে সূরা দোখানের শুরুর আয়াতগুলো আমাদেরকে এক মহা প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দেয় যেখানে আল্লাহ তাআলা পূর্ববর্তী জাতি ও পরবর্তী জাতিকে একত্র করেছেন। গুনাহ ও অবাধ্যতার সাগরে হাবুডুবু করতে থাকা লোকদের আলোচনা হয়েছে। আল্লাহ তালা বলেননাল্লাহ [মিউজিক] আলামাফ আলাহ আলা যারা আল্লাহর সাক্ষাৎ অস্বীকার করেছে তারা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এমনকি যখন হঠাৎ তাদের কাছে কেয়ামত এসে যাবে তারা বলবে হায় আফসোস সেখানে আমরা যে ত্রুটি করেছি তার উপর তারা তাদের পাপসমূহ তাদের পিঠে বহন করবে সাবধান তারা যা বহন করবে তা কত নিকৃষ্ট নেককার লোকদেরও আলোচনায় এসেছে যাদের নেক আমলগুলো তাদের সামনের পথকে আলোকিত করবে আল্লাহ তালা বলেন ইন্নামল ফাস আজওলা ইল্লা রাহিমল্লাহ ইন্নাহু আজ রাহিম নিশ্চয় ফয়সালার দিনটি তাদের সকলের জন্য নির্ধারিত সময় সেদিন এক বন্ধু অপর বন্ধুর কোন কাজে আসবে না এবং তারা সাহায্য প্রাপ্ত হবে না তবে আল্লাহ যার প্রতি রহম করবেন তার কথা আলাদা তিনি মহাপরাক্রান্ত বড়ই দয়ালু আল্লাহ তালা ওই সকল অভিশপ্ত দের জন্য কি ধরনের আজাব প্রস্তুত করে রেখেছেন তার নিয়ামত প্রাপ্ত বান্দাদের জন্য তিনি কি পুরস্কারের ব্যবস্থা করেছেন আল্লাহ তালা বলেন ইন্নাজার [মিউজিক] হামলাহ [মিউজিক] হামিনা কারীম ইন্নাহতার নিশ্চয় বৃক্ষ হবে পাপীর খাদ্য গলিত তামার মত উদর সমূহে ফুটতে থাকবে ফুটন্ত পানির মত বলা হবে ওকে ধরো অতঃপর তাকে জাহান্নামের মধ্যস্থলে টেনে নিয়ে যাও তারপর তার মাথার উপর ফুটন্ত পানির আজাব ঢেলে দাও বলা হবে তুমি আস্বাদন করো নিশ্চয় তুমি সম্মানিত অভিজাত নিশ্চয় এটা তাই যে বিষয়ে তোমরা সন্দেহ করতে এমন শাস্তির ব্যবস্থা আল্লাহ গুনাহ ও অবাধ্যতার সাগরে হাবুডুবু করতে থাকা লোকদের জন্য প্রস্তুত করেছেন। তাহলে যারা মুক্তির কিসতিতে আরোহণ করেছে তাদের জন্য আল্লাহ কি ব্যবস্থা করে রেখেছেন? আল্লাহ তালা বলেন ইন্নাল মুত্তাকিনাফমা আমিন জান্নাত [মিউজিক] আমিন ইল্লাল্লাহলাহ [মিউজিক] নাহ মুরতাব নিশ্চয় মুত্তাকিরা থাকবে নিরাপদ স্থানে বাঘ বাগিচা ও ঝরণাধারার মধ্যে তারা পরিধান করবে মেহি ও পুরো রেশমে বস্ত্র এবং তারা মুখোমুখী হয়ে বসবে এরূপে ঘটবে আর আমি তাদেরকে পেয়ে দেব ডাগর নয়নাহরদের সাথে সেখানে তারা প্রশান্ত চিত্তে সকল প্রকারের ফলমূল আনতে বলবে প্রথম মৃত্যুর পর সেখানে তারা আর মৃত্যু আস্বাদন করবে না আর তিনি তাদেরকে জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করবেন তোমার রবের অনুগ্রহ স্বরূপ এটাই তো মহাসাফল্য। অতঃপর আমি তো তোমার ভাষায় কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি। যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে। অতএব তুমি অপেক্ষা করো। তারা অপেক্ষাকারী। এই আয়াতগুলো উপরে উল্লেখিত আমাদের সেই সাথীর মধ্যে এমন ক্রিয়া সৃষ্টি করল যার ফলে সে এত পরিমাণে কাঁদলো যে অন্যান্য মুসল্লিরা তার ব্যাপারে আশঙ্কা করতে লাগলো। যখন সালাত শেষ হলো তখন সকলে তার পাশে জড়ো হয়ে তাকে সান্ত্বনা দিতে লাগলো এবং তাকে আল্লাহর দয়া অনুগ্রহের কথা শোনাতে লাগলো। আমি যুবকটির সাথে কথা বললাম তখনও সে কাঁদছিল। সে বলল, আল্লাহর শপথ আমি আল্লাহ তাআালার ব্যাপারে অনেক লজ্জিত। অনেক বছর আমি তার অবাধ্যতা ও নাফরমানি করেছি। অথচ তিনি আমাকে দেখেছেন। এ রমজানের পূর্বে আমি কখনো সিয়াম পালন করিনি এবং সালাত আদায় করিনি। এ রমজানে প্রথম আমি সিয়াম পালন করেছি। সালাত আদায় করছি। ইতিপূর্বে আমরা সর্বদাই নাফরমানীর কাজে লিপ্ত থাকতাম। নেশা করতাম ফাহেশা কাজে লিপ্ত হতাম। ধূমপান করতাম রাতভর নাচের আসরে। সময় কাটিয়ে সব অবস্থায় ঘুমিয়ে যেতাম। ছোট বড় এমন কোন গুনাহ বাকি নেই যা আমরা করিনি। এটাকে কি জীবন বলে? আমি অবস্থাতেই ছিলাম। অতঃপর রমজানের দুইদিন পূর্বে। আমার বন্ধুরা আমার নিকট এলো। আমি তাদের জন্য নেশার বস্তু প্রস্তুত করলাম। আমি তাদেরকে নিয়ে গিটার বাজাতাম ও গান করতাম। আমরা ছিলাম চারজন। আমাদের দুই বন্ধু বলল, আমরা আসলেই জীবনের প্রতি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। এখন সময় এসেছে জীবনের প্রকৃত অর্থ কি তা খুঁজে বের করার। আমরা আমাদের জীবনের যথেষ্ট সময় নষ্ট করে ফেলেছি। ওদিন আমরা এশার সালাত মসজিদে গিয়ে জামাতের সাথে আদায় করলাম। আমরা ইচ্ছা করলাম এটা আমাদের সত্য পথে চলার প্রথম দিন হবে এবং ধ্বংস ও নাফরমানের শেষ রাত হবে। হ্যাঁ। সেটাই আমাদের জীবনের শুরু ও শেষ হলো। যুবকটি বলে অতঃপর আমি এবং আমার এক বন্ধু মদনেশদ্রব্য প্রস্তুত করতে লাগলাম। আর অপর দুইজন তাদের পথে চলে গেল। আমাদের চোখের সামনে একজন মজা করে গাড়িকে ডানে বামে করে চালাতে লাগলো। আর গাড়িতে গতি ছিল প্রচুর। কিছুক্ষণ পর সে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার বাইরে গাড়ি নিয়ে পড়ে গেল। সাথে সাথে গাড়িটি চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেল। বিষয়টা আমাদের চোখের সামনেই ঘটে গেল। আমরা দৃশ্যটি দেখলাম এবং প্রচন্ড এক আওয়াজ শুনলাম। তখন আমরা খুব দ্রুত গাড়ির দিকে ছুটে গেলাম। সেখানে গিয়ে দেখি গাড়িতে থাকা যুবকের দেহ ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেছে। তাদের খন্ডিত দেহ থেকে রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে। তাদের রুহ আল্লাহর দরবারে চলে গেছে। আল্লাহ বলেন [মিউজিক] আর মৃত্যুর যন্ত্রণা যথাযথ আসবে। যা থেকে তুমি পালায়ন করতে চাইতে। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন ইন্নাল মতল্লাহমাতা [মিউজিক] বল যে মৃত্যু হতে তোমরা পলায়ন করছো তা অবশ্যই তোমাদের সাথে সাক্ষাত করবে তারপর তোমাদেরকে অদৃশ্য অদৃশ্য সম্পর্কে পরিত্যাত আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে নেয়া হবে তারপর তিনি তোমাদেরকে জানিয়ে দেবেন যা তোমরা করতে অন্য এক আয়াতে আল্লাহ বলেন নামাজ হায়াতুদুনিয়া ইল্লামা প্রতিটি প্রাণী মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে আর অবশ্যই কেয়ামতের দিনে তাদের প্রতিদান পরিপূর্ণভাবে দেয়া হবে সুতরাং যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে সেই সফলতা পাবে আর দুনিয়ার জীবন শুধু ধোকার সামগ্রী আল্লাহু আকবার। কিছুক্ষণ পূর্বেও তারা আমাদের সাথে ছিল। তারা আমাদের বলল, আমরা এ অবাধ্যতার জীবন নিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। অভিনন্দন তাদের। তারা সত্যভাবেই ফিরে এসেছে। তারা মসজিদ থেকে জামাতের সাথে এশার সালাত আদায় করার পর ভালো একটি অনুভূতি নিয়ে বের হয়েছিল। আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি জামাতের সাথে এশার সালাত আদায় করে, সকাল পর্যন্ত সে আল্লাহ তাআলার জিম্মায় থাকে। ছেলেগুলো রাতের প্রথম অংশেও জীবিত ছিল। কিন্তু তারা আর সকাল করতে পারলো না। যুবকটি বলে আমি তখন আমার সাথে যে সাথীটি ছিল তাকে কাঁদতে কাঁদতে বললাম আমরাও যদি তাদের সাথে থাকতাম তাহলে আজ আমাদের অবস্থা কি হতো? আমরা কিভাবে আল্লাহর সামনে দাঁড়াবো? আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করব? আমরা কি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তার সাথে সাক্ষাত করতাম না? আমাদের সাথে কি তখন মদ ও সিগারেট থাকতো না? কত রাত আমরা নেশাগ্রস্ত আর ফায়েশা কাজের মধ্যে কাটিয়ে দিলাম। অথচ তিনি তো আমাদের সবকিছুই দেখছেন। যুবক ছেলেটি তার ও তার বন্ধুর ঘটনা বলছিল আর কাঁদছিল। আর দুগাল বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিল। আমি মনে মনে বললাম এমন অশ্রুর জন্য তোমাকে অভিনন্দন। যারা মুক্তির কিশ্তিতে আরোহণ করতে চায় তাদের অবস্থা এমনই হয়ে থাকে। যুবকটি বলতে শুরু করল হায় আমার লজ্জা। আমি কিভাবে মুক্তি পাবো? তিনি কি আমাকে গ্রহণ করবেন? আমার এত অপরাধের পরও কি তিনি আমাকে কবুল করবেন? আমার গুনাহ মাফ করবেন তখন আমি তাকে সান্ত্বনা দিলাম এবং যারা তাওবা করে তাদের জন্য যে সকল সুসংবাদ রয়েছে আমি সেগুলো তাকে শোনালাম তাকে বললাম নিশ্চয় তাওবার মাধ্যমে পূর্বের সকল গুনাহ মাফ হয়ে যায় আল্লাহ বলেননিফারমানতামাতা [মিউজিক] আর অবশ্যই আমি তার প্রতি ক্ষমাশীল যে তওবা করে ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে অতঃপর সৎপথে চলতে থাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আ সাল্লাম বলেন ইসলাম তার পূর্বের সবকিছু মিটিয়ে দেয় আর তাওবা তার পূর্বের সকল গুনাহ মিটিয়ে দেয় তাকে বললাম [মিউজিক] গুনাহ থেকে তওবাকারী ব্যক্তি নিষ্পাপ মানুষের মত হয়ে যায় তাকে আরো বললাম আল্লাহ বলেন ইল্লাহ্লাহ [মিউজিক] রাহমা তবে যে তাওবা করে ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে পরিণমে আল্লাহ তাদের পাপগুলোকে পূর্ণ দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। আল্লাহ অতিব ক্ষমাশীল পরম দয়ালু। তাকে বললাম তওবা করলে আল্লাহর মত অন্য কেউ খুশি হন না। তাকে সুসংবাদ দিলাম ইন্নাল্লাহা মতাহন নিশ্চয় আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং ভালোবাসেন অধিক পবিত্রতা অর্জনকারীদের। যুবকটি দুইদিন পূর্বে ওমরা পালনের জন্য এসেছে। 29 রমজান সে হারামে কিয়ামুল লাইলে উপস্থিত হয়েছে। জীবনে প্রথমবারের মত সে বায়তুল্লাহ দেখেছে। সে কিছুটা শান্ত হওয়ার পর আমি তাকে বললাম এখন যাও এরপর থেকে সালাত আদায়ের ব্যাপারে যত্নবান হবে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করো তিনি তোমার হায়াতকে দীর্ঘ করে দিয়েছেন এবং তোমাকে তওবা করার সুযোগ দিয়েছেন তিনি বললেন আলহামদুলিল্লাহ সমস্ত প্রশংসাই আল্লাহর যিনি আমাদের তওবা করার সুযোগ দিয়েছেন এবং গুনাহগার অবস্থায় মৃত্যু দেননি আমি বললাম এখন থেকে সর্বদা খারাপ বন্ধুদের এড়িয়ে চলবে তাদের সাথে কখনো মিশবে না এর পরিবর্তে ভালো মানুষদের সাথে বন্ধুত্ব করো। তাদের সাথে চলাফেরা ওঠাবসা শুরু করো এবং মুক্তির কিস্তি আরোহণ করো। আমি কয়েকদিন পর তোমার সাথে সাক্ষাতের অপেক্ষায় থাকবো। ইনশাআল্লাহ ঈদের পর তোমার সাথে কথা বলার জন্য অপেক্ষায় থাকবো। ঈদের কয়েকদিন পর তুমি আমার সাথে যোগাযোগ করবে। আমার সাথে পরে দেখা করার ওয়াদা দিয়ে সে চলে গেল। ঈদের কয়েকদিন পর সে আমার কাছে এলো এবং বলল, আগামীকাল ফজরের সালাত আমি আপনার সাথে আদায় করবো ইনশাআল্লাহ। প্রতিশ্রুত সময়ে সে আমার নিকট এল। আমি তার চেহারার দিকে তাকিয়ে রইলাম। তার চেহারা স্পষ্ট ঈমানের নূর চমকাচ্ছিল। ও সালেহীনদের গাম্ভীর্যতা ফুটে উঠছিল। আমি তখন বললাম আল্লাহ সত্য বলেছেন। [মিউজিক] কাফন যে ব্যক্তি মৃত ছিল তাকে আমি জীবিত করলাম। তার জন্য আলোর ব্যবস্থা করলাম। যার সাহায্যে সে মানুষের মাঝে চলাফেরা করে সে কি তার মত যে অন্ধকারে নিমজ্জিত যা থেকে সে কষনো বেরিয়ে আসতে পারবে না এটা এজন্য যে কাফেররা যা করছে তা তাদের জন্য চাকচিক্যময় করে দেওয়া হয়েছে এরপর যখন সে কথা বলছিল তখন তার কথা থেকে প্রশান্ত ভাব ফুটে উঠছিল প্রথম যে কথাটা সে আমাকে বলল তা হলো ফজরের সালাত কতই না সুন্দর ফজরের সালাতের তেলাওয়াত বড় মনোমুগ্ধকর আমি তখন মনে মনে বললাম সুবহানাল্লাহ গত গতকাল যার কাছে গান আর গেটারের সুর প্রিয় ছিল আজ সালাতুল কোরআনের তেলাওয়াত প্রিয় হয়ে গেল সে বলল আমি আমার পুরনো দুই বন্ধুকে নিয়ে এসেছি যারা মুক্তির নৌকায় আরোহণ করতে চায় তারা ধ্বংস আর নোংরা জীবনের প্রতি ক্লান্ত আর অতিষ্ঠ হয়ে গেছে আমি তাদেরকে বললাম কিভাবে এবং কখন তোমাদের ধ্বংসের জীবন শুরু হয়েছিল বল আমাকে একজন বলে আমি যখন মাধ্যমিকে ভর্তি হলাম তখন থেকে আমার ধ্বংসের পথে হাঁটা শুরু প্রথমে সিগারেট তারপর গল্পের বন্ধু তাদের সাথে রাতজাগা সালাতের প্রতি অনিহা সৃষ্টি হওয়া, সালাত ছেড়ে দেয়া। তারপর হাসিস মধ্য পান করা, অশ্লীল কাজ করা। তারপর বিভিন্ন দেশে অশ্লীলতা ও গুনাহের কাজের জন্য সফর শুরু করা। এভাবে সাতটি বছর কেটে যায়। ওলামালাদন। [মিউজিক] আমার রবের অনুগ্রহ না থাকলে আমিও তো জাহান্নামে হাজিরকৃতদের একজন হতাম। আল্লাহ তালা আমাদের থেকে কি চান? আমরা কত রাত গুনাহ অশ্লীলতা নাফরমানের মধ্যে কাটিয়ে দিলাম। আমাদের প্রভুর সামনে আমাদের লজ্জা আমি বললাম আল্লাহর শুকরিয়া যে তিনি তোমাদেরকে সরল পথে ফিরিয়ে এনেছেন তুমি এখন থেকে আল্লাহর পথে অটল থাকবে আমি বলি হে ভাই তোমরা যারা এখনো গুনাহ ও নাফরমানির কাজে ডুবে আছো তোমাদের কি এখনো সময় হয়নি তওবা করার অতীত জীবনের প্রতি লজ্জিত হওয়ার গুনাহের কাজ ছেড়ে সত্য সঠিক পথে চলার সংকল্প করার সময় কি এখনো তোমাদের হয়নি আমরা কি তোমাদের দেখব যে তোমরা আগেভাগে সালাতে চলে আসছো নাকি তোমরা তোমাদের দের এই অন্ধকার পথেই থেকে যাবে। ঢেউ তোমাদের আরো মাছ দরিয়ায় নিয়ে যাবে। এভাবে একসময় মৃত্যু তোমাকে ছো মেরে নিয়ে যাবে। এমন অবস্থায় তোমার মৃত্যু আসবে যে অবস্থায় মৃত্যু হওয়া তোমার নিজের কাছেও পছন্দনীয় মনে হবে না। এখনো কি তোমার তওবা করার সময় হয়নি? এখনো তোমার রবের দিকে ফিরে আসার সময় হয়নি। তোমার রবের দরবারে এসে একথা বলার সময় কি এখনো তোমার হয়নি? কবি ডক্টর মোহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল মুকরিন বলেন হে আমার সৃষ্টিকর্তা আমি কাঁধে পাপের বোঝা বহন করে তোমার দরবারে এসে উপস্থিত হয়েছি আমি গুনাহ তাড়িয়ে বেড়াচ্ছি এর কারণে আমি কষ্টে পতিত হয়েছি এবং আমার দুঃখের আগুনে দগ্ধ হচ্ছি তোমার নেককার বান্দারা তোমার দরবারে নেকের হাদিয়া নিয়ে আসে আর আমি গুনাহ তাড়িয়ে নিয়ে এসেছি তোমার দরবারে হে আমার সৃষ্টিকর্তা তোমার দরবার ব্যতীত আমার আর কোন যাওয়ার জায়গা নেই তাইতো তোমার দরবারে এসে মোনাজাত করছি। হে মাবুদ সত্য হৃদয় নিয়ে তোমার দরবারে এসেছি। ভগ্ন হৃদয়ে তোমার কাছে তওবা করছি। হে মাবুদ ক্ষমার আশা অন্তরে ধারণ করে তোমার দরবারে এসেছি। হে মাবুদ তোমার দরবারে এসে তওবা করছি। তোমার এই গুনাহগার বান্দাকে তওবাকারীদের দলভুক্ত করো। তুমি তাকে প্রবৃত্তি ও শাহওয়াতের বিরুদ্ধে সাহায্য করো। তুমি যদি সাহায্য না করো তাহলে কে তাকে সাহায্য করবে? পূর্বের গুনাহগুলো তোমার সামনে প্রকাশ করলাম। আমার অন্তরের সমস্ত বিষয় তোমার সামনে পেশ করলাম। আমার কোন বিষয়ই তো তোমার কাছে গোপন নেই। তুমি কি মুক্তি চাও? আমি তোমাকে এটি জিজ্ঞেস করছি। নিশ্চয় তুমি কখনো এর উত্তরে না বলবে না। তুমি কি মুক্তি চাও? তাহলে মুক্তির নৌকায় আরোহণ করো এবং আল্লাহর পরিচয় লাভ করো। তুমি কি চাও যে আল্লাহ তোমার সাথে থাকুন? তাহলে তাকেও অবলম্বন করো। তুমি যদি তোমার পরিবার তোমার সম্পদ ও নিজেকে হেফাজত করতে চাও তাহলে তোমার উপর আল্লাহর হকগুলো হেফাজত করো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম কি এ কথা বলেননি? তুমি আল্লাহর বিধানের হেফাজত করো। আল্লাহ তোমাকে হেফাজত করবেন। তুমি আল্লাহর বিধানের হেফাজত করো। আল্লাহকে তোমার পাশে পাবে। তুমি স্বাচ্ছন্দের সময় আল্লাহর পরিচয় লাভ করো। তার আদেশ-নিষেধগুলো মেনে চলো। তোমার কঠিন সময়ে আল্লাহ তাআলা তোমাকে সাহায্য করবেন। তোমরা কি হাদিসে বর্ণিত সেই তিন ব্যক্তির ঘটনা শোনোনি যারা রাত্রি যাপনের জন্য একটি গুহায় আশ্রয় নিয়েছিল। তখন পাহাড়ের উপর থেকে বড় একটি পাথর পড়ে তাদের গুহার মুখ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে তারা অন্ধকার গুহায় আটকে পড়ে। তাদের অবস্থান সম্পর্কে আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ জানতো না। আল্লাহ তাআলা তখন যদি তাদের উপর দয়া না করতেন তাহলে সেখানে নীরবে মৃত্যুবরণ করা ছাড়া তাদের আর কোন উপায় ছিল না। তখন তারা বলল তোমরা তোমাদের নেক আমলগুলোর ওসিলায় আল্লাহ তাআালার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করো। হয়তো তিনি তোমাদেরকে এর উসিলায় এখান থেকে মুক্ত করবেন। তখন তাদের প্রথমজন মাতাপিতার প্রতি তার সদাচরণের ওসিলা দিয়ে দোয়া করল। সে তার জানমালো পরিবারের উপর মাতাপিতাকে প্রাধান্য দিত। দ্বিতীয় জন শক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও জেনা অফ অফ অফ অফ অফ অফ অফ অফ অফ অফ ফাহসাত ছেড়ে দেয়ার কাসিলা দিয়ে দোয়া করল। আর তৃতীয় জন শ্রমিকের পারিশ্রমিক সময় মত আদায় করার অসিলা দিয়ে দোয়া করল। তারা তাদের দোয়ার মধ্যে বলল হে আল্লাহ আমরা যদি এই আমলগুলো আপনাকে সন্তুষ্ট করার জন্যই করে থাকি তাহলে আপনি আমাদেরকে বিপদ থেকে উদ্ধার করুন। আল্লাহ তাআলা তো তাদের এখলাস ও সত্যনিষ্ঠতার কথা জানতেন। তাই তাদের গুহার মুখ থেকে পাথর সরে গেল এবং তারা হেটে হেটে সেখান থেকে বের হয়ে এল। তারা সুখ স্বাচ্ছন্দের সময় আল্লাহর এবাদত করেছে। তার আদেশ-নিষেধগুলো মেনে চলেছে। তার পরিচয় অর্জন করেছে। তাই আল্লাহ তাআলাও বিপদের সময় তাদের ডাকে সাড়া দিয়েছেন। তাদেরকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেছেন। তোমরা তোমাদের নেক আমলগুলোর উসিলা দিয়ে আল্লাহর নিকট দোয়া করো। এমন কোন আমল কি আমাদের আছে? যার উসিলায় আমরা আমাদের বিপদের সময় দোয়া করব। কোন পাহাড়ের গুহায় আটকে গেলে অথবা মরুভূমিতে বা কোন গহেন জঙ্গলে পাথ হারিয়ে ফেললে। যে আমলের উসিলায় আমরা আল্লাহর নিকট দোয়া করব। আইজ আল কারনি বলেন, হে আমার প্রতিপালক আমাকে ক্ষমা করুন। আমার পদস্খলনের জন্য আমাকে পাকরাও করবেন না। হে আমার রব, দয়া করে আমি যে গুনাহ করেছি সেগুলো মাফ করুন। বিপদ মুসিবত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আমরা আল্লাহকে কত ডাকি। যখন বিপদ মুসিবত দূর হয়ে যায় তখন আমরা তাকে ভুলে যাই। সমুদ্রে আমাদের জাহাজ উদ্ধারের জন্য আমরা তাকে ডাকি। আর যখন তীরে পৌঁছি তখন তার অবাধ্যতা করি। আমরা আকাশপথে নিরাপদে অশান্তভাবে ভ্রমণ করি কিন্তু নিচে পড়ে যাই না। কারণ আল্লাহ আমাদের হেফাজত করেন। ইবনুল কাইয়ুম রহমতুল্লাহি আলাইহ বলেন, মানুষ যখন মানুষের প্রতি ভরসা করে, তাদের মাধ্যমে শক্তি সামর্থ্য অর্জন করে তখন তুমি তোমার প্রতিপালক। আল্লাহ তাআালার প্রতি ভরসা করো। তার মাধ্যমে শক্তি সামর্থ্য অর্জন করো। মানুষ যখন দুনিয়া নিয়ে দুনিয়া পেয়ে খুশি হয় তুমি তখন আল্লাহকে নিয়ে আল্লাহকে পেয়ে খুশি হও। মানুষ যখন তাদের বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে অন্তরঙ্গ হয় তুমি তখন আল্লাহ তাআালার সাথে অন্তরঙ্গ হও। তারা যখন তাদের রাজা-বাদশাহ ও বড় বড় লোকদের সাথে পরিচিত হয়। তাদের কাছ থেকে কিছু পাওয়ার আশায় তাদের কাছে একটু সম্মানের আশায় একটু বড় পথ পাওয়ার আশায় তাদের নৈকট্য অর্জন করে। তখন তুমি আল্লাহ তা’আলার সাথে পরিচিত হও। তার নৈকট্য অর্জন করো। তার নিকট প্রিয় হও তার সামনে নিজেকে সপে দাও তাহলে এর মাধ্যমে তুমি সীমাহীন সম্মান আর মর্যাদার অধিকারী হতে পারবে যেমনভাবে আল্লাহ বলেন [মিউজিক] কেউ যদি সম্মান চায় তবে তা যেন আল্লাহর কাছেই চায় কেননা সকল সম্মান আল্লাহর অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন লিল্লাহি রাসহল মমিনাল মুনাফলালাম সকল মর্যাদা তো আল্লাহর তার রাসূলের মুমিনদের কিন্তু মুনাফিকরা তা জানে না। পরিশেষে বলছি হে ভাই আল্লাহ তোমার মধ্যে বরকত দান করুন। ইন্নালিত তাওবাতি বাবানদমাবাইনা মিসহ মাবাইনাল মাশরক মাগরিব। নিশ্চয় তাওবার এমন দরজা রয়েছে যার দুই কপাটের মাঝের প্রশস্ততা হল পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝের প্রশস্ততার সমান। অন্য রেওয়ায়েতে এসেছে আল্লাহ তাআলা পশ্চিম দিকে একটি দরজা স্থাপন করেছেন। যার প্রশস্ততা 70 বছরের পথ পরিমাণ। পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত সে দরজা বন্ধ হবে না। সুতরাং সে দরজা খোলা থাকবে। তাহলে তুমি কি এখনো তাতে প্রবেশ করবে না? আল্লাহ তালা তোমাকে হেফাজত করুন। আল্লাহ তালা ডেকে বলেন ইয়াবাকনা বিল্লাহক হে আমার বান্দা তোমরা রাতদিন ভুল করতে থাকো। গুনাহ করতে থাকো। আর আমি সকল গুনাহ ক্ষমা করে থাকি। সুতরাং তোমরা আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো। আমি তোমাদের ক্ষমা করে দেব। হে ভাই তুমি কি আল্লাহর এই আহ্বান শুনেছো? তাহলে কেন তওবা করছো না? কেন তার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছো না? আরেকটু শোনো ইন্নাল্লাহা ইয়াদাহবিল্লা মস নাহার নাহারি লিয়া মলাল হাততাশামসমা রাতে আল্লাহ তার করুণার হস্ত সম্প্রসারিত করেন যেন দিবসের অপরাধী তার প্রতি ধাবিত হয়ে তার নিকট তওবা করে অনুরূপভাবে দিবসে তিনি শিয় হাত সম্প্রসারিত করেন যেন রাতের অপরাধী তার প্রতি ধাবিত হয়তার তার নিকট তাওবা করে। আল্লাহ কাকুতি মেনতি ও ক্ষমা প্রার্থনাকে পছন্দ করেন। তাহলে তুমি কেন তার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো না? কেন তার নিকট কাকুতি মেনতি করো না? আল্লাহর দরবারে মেনতি করে বল আল্লাহুম্মাজনাহ মিনাল আলাইহিস। হে আল্লাহ আপনি আমাকে তওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং আমাকে পবিত্রতা অর্জনকারীদের দলভুক্ত করুন। যাদের কোন ভয় নেই এবং যারা দুঃখিত হবে না। কবি জামালউদ্দিন সরসরের ভাষায় তুমি বল আমি নিজের পদস্খলনের জন্য দুঃখিত এক বান্দা। গুনাহ ও পদস্খলনের কারণে যে চিন্তিত অস্থির আমি গুনাহের অতল সমুদ্রে ডুবন্ত এক বান্দা। আমি চিৎকার করে সাহায্যকারীকে ডাকছি হয়তো সাড়াদানকারী একজনকে পেয়ে যাব। হায় আফসোস বিগত জীবনের উপর যে জীবনে গুনাহ ব্যতীত অন্য কোন আমল কখনো করিনি। আমি এক নিরুপায় বান্দা আপনার ক্ষমা চাই। আর যে আপনার সন্তুষ্টি চায় সে কখনো নিরাশ ফিরে যায় না। আজকের আলোচনা শেষ করার পূর্বে আমি আপনাদেরকে ছোট্ট একটি চিঠি পড়ে শোনাবো। যেটা কেউ একজন আমাকে দিয়েছে। শায়েখ আমি একজন মুসলমানের সন্তান। কিন্তু আমি সালাত আদায় করি না এবং সিয়াম পালন করি না। আমি একজন কাফের। আমি ইসলামের অর্থও জানি না। আজ আমি আল্লাহ তাআলাকে সামনে রেখে আপনাকে সামনে রেখে এবং উপস্থিত সকলকে সামনে রেখে আমার তাওবার ঘোষণা করছি। আল্লাহ আপনাদের সকলকে উত্তম বিনিময় দান করুন। আমি চাই এখানে সকলের উপস্থিতিতে কালেমা শাহাদাত পড়া হোক। সকলের সাথে আমিও কালেমা পড়বো। আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওশদু আন্না মুহাম্মাদান রাসুলুল্লাহ। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন মাবুদ নেই। এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল। আল্লাহুম্মাজনা [মিউজিক] হে আল্লাহ আপনি আমাকে তাওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং আমাকে পবিত্রতা অর্জনকারীদের দলভুক্ত করুন। আমি যেন হকের উপর অটল দৃঢ়পথ থাকতে পারি। হে আল্লাহ তোমার দয়া অনুগ্রহের মাধ্যমে আমাদের গাফলতের ঘুম ভেঙে দাও। আমাদের মৃত অন্তরগুলো নিজ ফজল ও করমে জীবিত করে দাও। আমাদেরকে ক্ষমা করে দাও। হে আল্লাহ আমাদেরকে আবরার ওস সাদেকিনদের পথে পরিচালিত করুন। আপনার নির্বাচিত উত্তম বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করে নিন। আমাদেরকে দুনিয়া ও আখেরাতে উত্তম বিনিময় দান করুন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে হেফাজত করুন। হে আল্লাহ আপনি তওবাকারীদের তওবা কবুল করুন। গুনাহগারদের গুনাহগুলো ক্ষমা করুন। পথভ্রষ্ট দেশেহারাদের সঠিক পথ দেখান। হে আল্লাহ আমাদের উপস্থিত অনুপস্থিত মৃত জীবিত সকলকে ক্ষমা করুন। আমিন।
